নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই একাধিক অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, তাঁর দলের পোলিং এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগ ঘিরে সোনাচূড়ায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসাও হয়। অন্য দিকে, রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডার পর গ্রেফতার হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (Aam Janata Unnayan Party) প্রধান হুমায়ুন কবীর। বিরোধী দলগুলির একাংশ বুথে এজেন্ট বসতে না দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছে।
নন্দীগ্রামে ভোটের দিন সকালেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ২৮০ নম্বর বুথে ভোট দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে বেরোন। সোনাচূড়ায় গিয়ে তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের পোলিং এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।
মিলনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেখানে বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বিজেপির তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কংগ্রেসের সমর্থকই নেই, ফলে এজেন্ট বসানোর প্রশ্নও ওঠে না। সেই সময় এক বিজেপি কর্মী মিলনকে বলেন, ‘‘আপনার প্লেয়ার নেই, তো খেলবেন কী ভাবে?’’ জবাবে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, ‘‘প্রথমে প্লেয়ার কারও থাকে না। পরে আসে।’’ কিছুক্ষণ বচসার পর সোনাচূড়া থেকে চলে যান মিলন।
নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ভোটের আগে রেয়াপাড়ার শিবমন্দিরে পুজো দেন। পরে তিনি জানান, তাঁর জানা মতে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার বা ‘প্রিভেনটিভ ডিটেনশন’-এর ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
দুপুরে নন্দীগ্রামে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোট দেওয়ার পরে তিনি জানান, তখন পর্যন্ত কেন্দ্রে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটের হার কম হলেও এ বার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
অন্য দিকে, রেজিনগরে ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে গোলাব নবি আজাদ। ভোটের দিন সকালে দলের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে হুমায়ুনের বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
হুমায়ুনের অভিযোগ ছিল, রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকায় ভোটে অনিয়ম হচ্ছে। পুলিশ এবং বিজেপিকে একইসঙ্গে নিশানা করে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর গ্রেফতারির বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য, হুমায়ুন ওই নির্বাচনের প্রার্থী বা পোলিং এজেন্ট—কোনও ভূমিকাতেই নেই। সেই অবস্থায় নির্দিষ্ট এলাকায় তাঁর ঘোরাফেরা নিয়ে আইনভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হুমায়ুনের গ্রেফতারি নিয়ে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে হুমায়ুন এমন মন্তব্য করেছিলেন যাতে হিংসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীও হুমায়ুনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং প্রত্যেককেই আইন মেনে চলতে হবে।
রেজিনগরে এজেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, কয়েকটি বুথ থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের তরফে নির্দিষ্ট কয়েকটি বুথে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধেই। অভিযোগের প্রতিবাদে রেজিনগর থানায় অবস্থান শুরু করেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান।
রেজিনগরে ভোটারদের আঙুলে কালি লাগিয়ে ভোট না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও বিরোধীদের একাংশ তুলেছে। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীও পরে এজেন্টদের নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ৩১৫টি বুথে এজেন্ট দেওয়া হলেও ভোটের সময় মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জন এজেন্ট সেখানে রয়েছেন; বাকিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সকাল ১১টা পর্যন্ত রেজিনগরে ভোট পড়েছিল ৩৮.৭১ শতাংশ। ফলে ভোটের বাকি সময়ে পরিস্থিতি এবং বুথগুলিতে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তিই এখন নজরে রয়েছে।



