প্রধান নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের মেয়াদ শেষের দিকে। তাঁর সময় ভারতীয় ক্রিকেটে যেমন একাধিক বড় সাফল্য এসেছে, তেমনই নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। সেই বিতর্কের অন্যতম আলোচিত নাম রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির মাঝপথে আচমকাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন ভারতীয় স্পিনার।
অশ্বিনের অবসরের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত কি তাঁর অবসরের অন্যতম কারণ? বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া এবং সিনিয়রদের জায়গা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিযোগিতার প্রেক্ষিতে অশ্বিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। তবে আগরকরকে নিয়ে এখন অশ্বিনের বক্তব্য যথেষ্ট ইতিবাচক।
সম্প্রতি ইউটিউব শো-তে আকাশ চোপড়ার সঙ্গে কথোপকথনে নিজের অতীত অভিজ্ঞতা এবং আগরকরের নির্বাচক হিসেবে ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন অশ্বিন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগরকের আমলে নিজেও দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। তা সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচক হিসেবে আগরকরের কাজের প্রশংসা করেছেন তিনি।
‘আমাকেও ওঁর আমলেই বাদ পড়তে হয়েছে’
আগরকরের প্রশংসা করতে গিয়ে অশ্বিন বলেন, প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটারকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাঁর মতে, আগরকর সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করেছেন।
অশ্বিনের কথায়, “আগরকর কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জানেন। সিনিয়র প্লেয়ারদের সামলাতে হয়েছে। কাজটা কঠিন ছিল। আমাকেও তাঁর আমলেই বাদ পড়তে হয়েছে।”
তবে নিজের বাদ পড়ার বিষয়টিকে সামনে না রেখে নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে আগরকরের কাজকে মূল্যায়ন করতেই বেশি আগ্রহী অশ্বিন। তাঁর মতে, আগরকর যে সাফল্য পেয়েছেন, সেটাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত।
আগরকরের সময়ে ভারতের বড় সাফল্য
অশ্বিনের বক্তব্যে আগরকরের আমলে ভারতীয় ক্রিকেটের সাফল্যের কথাও উঠে এসেছে। প্রধান নির্বাচক হিসেবে তাঁর মেয়াদে ভারত দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে সিনিয়র ও তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া যে সহজ কাজ নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন অশ্বিন।
তাঁর বক্তব্যে তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নির্বাচক হিসেবে আগরকরের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়নও রয়েছে। নিজের বাদ পড়ার ঘটনা স্বীকার করেও আগরকরের পেশাগত ভূমিকার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রাক্তন স্পিনার।
আকাশ চোপড়ার মন্তব্যেও উঠে এল পুরনো ক্ষোভ
আলোচনায় আকাশ চোপড়াও নির্বাচকদের কঠিন সিদ্ধান্তের দিকটি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একজন নির্বাচককে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের কাছে তিক্ত মনে হতে পারে।
আকাশ বলেন, আগরকর যে ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা যে কথা বলেছেন, তার জন্য সাহস প্রয়োজন। অনেক ক্রিকেটারেরই নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এমনও ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁরা খেলা ছাড়ার ১০-১৫ বছর পরেও সেই ক্ষোভ মনে রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন আকাশ। যদিও তিনি কারও নাম প্রকাশ্যে আনেননি।
এই প্রসঙ্গেই অশ্বিনের অবস্থানকে আলাদা করে দেখেন আকাশ। তাঁর বক্তব্য, অশ্বিন নিজেও আগরকরের সময়ে বাদ পড়েছিলেন। তারপরও যদি তিনি আজ প্রধান নির্বাচক হিসেবে আগরকরের কাজের প্রশংসা করেন, তাহলে সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অবসরের পরও আগরকরকে নিয়ে অশ্বিনের ইতিবাচক বার্তা
২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন অশ্বিন। সেই সিদ্ধান্তের পর তাঁর কেরিয়ারের শেষ পর্ব নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। নির্বাচকদের পরিকল্পনা, তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ এবং দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠেছিল।
তবে এখন আগরকর সম্পর্কে অশ্বিনের বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, আগরকর তাঁর আমলে তাঁকে বাদ দিলেও প্রধান নির্বাচক হিসেবে তাঁর কাজের প্রশংসা করা উচিত।
অর্থাৎ, মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচক হিসেবে অজিত আগরকরের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে অশ্বিনের মূল্যায়ন ইতিবাচক। ভারতীয় ক্রিকেটে আগরকরের অধ্যায় শেষের দিকে পৌঁছনোর সময় প্রাক্তন সতীর্থের এই মন্তব্য তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে।



