ফল শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী—এ নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু রাতে সব ফল খাওয়া সমান উপকারী নয়। বিশেষ করে ঘুমের আগে কিছু ফল খেলে কারও কারও অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, হজমের সমস্যা বা বারবার প্রস্রাবের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ফলের গুণের পাশাপাশি কখন খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
কলা পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও রাতে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। এতে কার্বোহাইড্রেট ও পটাশিয়াম রয়েছে। রাতে খেলে কিছু মানুষের হজমে অস্বস্তি হতে পারে। তবে কলা খেলে সবারই কফ বা মিউকাস বাড়ে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কমলালেবু, মোসম্বি, আঙুরের মতো সাইট্রাস ফল রাতে খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার প্রবণতা থাকা ব্যক্তিদের সমস্যা বাড়তে পারে। এই ফলগুলিতে অ্যাসিড রয়েছে, তাই যাঁদের আগে থেকেই অম্বল বা অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের রাতে এগুলি এড়িয়ে চলাই আরামদায়ক হতে পারে।
তরমুজে জলের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। তাই ঘুমের ঠিক আগে বেশি পরিমাণে তরমুজ খেলে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হতে পারে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের রাতে এমনিতেই ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।
আপেল ফাইবার ও পেকটিনের ভালো উৎস। কিন্তু ঘুমের ঠিক আগে বেশি পরিমাণে আপেল খেলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে। তাই রাতে ফল খেতেই হলে পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত হজমক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার—সূর্যাস্তের পর হজমশক্তি এমনভাবে কমে যায় যে ফলের ফ্রুকটোজ শরীরে চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে, এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শুধু রাতে খাওয়া হয়েছে বলেই ফল শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায় না। বরং মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ, শারীরিক পরিস্থিতি এবং ডায়াবেটিস বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ফল খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ‘সঠিক সময়’ নির্ধারণ করা যায় না। সকালের নাশতা বা দিনের মাঝামাঝি সময়ে ফল খাওয়া ভালো অভ্যাস হতে পারে, আবার রাতে খাবারের কয়েক ঘণ্টা আগে পরিমিত ফল খাওয়াও অনেকের জন্য সমস্যা তৈরি করে না। ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ফল না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।



