কমিউনিস্টরা রাষ্ট্রবিরোধী… ‘হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা’! যাদবপুরে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

যাদবপুরে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের পড়ুয়া, বাম রাজনীতি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব শুভেন্দু অধিকারী; দিলেন কড়া বার্তাও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের পড়ুয়া ও পূর্বতন বাম-তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না।’’

রাখিবন্ধন উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাদবপুরের আট-বি এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান ঘিরে রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট বন্ধ রাখা হয়।

মঞ্চে উঠে শুভেন্দুর মূল নিশানা ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশে জাতীয়তাবিরোধী কার্যকলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার সেই ‘সমঝোতার রাজনীতি’ চালিয়ে যাবে না।

বাম আমলের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুরের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং বাঙালির ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় বিজেপি-বিরোধী অবস্থানের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্যই সেই সমঝোতা বজায় রাখা হয়েছিল। এই বক্তব্যগুলি অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে আলাদা করে পাওয়া যায়নি।

যাদবপুরের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়েও কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, নিট-সংক্রান্ত একটি মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে কয়েক জন পড়ুয়াকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি চে গেভারার ছবি-সহ টি-শার্ট পরানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, ওই মিছিলে জাতীয় স্বার্থ বা চাকরি-সংক্রান্ত ইস্যুর বদলে ‘আজাদি’ স্লোগানই গুরুত্ব পেয়েছিল।

‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কিসের আজাদি চান?’’ এরপর মাদক সেবন এবং ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর প্রসঙ্গ টেনে যাদবপুরের একাংশের রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেন। একই সঙ্গে অপারেশন সিঁদুর এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

এর পরেই আসে সবচেয়ে কড়া বার্তা। শুভেন্দু বলেন, ‘‘হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না।’’ নন্দীগ্রাম ও জঙ্গলমহলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, যাদবপুরেও ‘অভিযান’ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ বা ‘ফ্রি কাশ্মীর’-এর মতো লেখা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং ক্যাম্পাসে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তৃতায় উঠে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্ত্রী ও রাজ্যপালকে ঘিরে অতীতের বিতর্কও। নিজের বিরোধী দলনেতা থাকার সময় যাদবপুরে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়ির উপরেও কয়েক জন উঠেছিলেন এবং তাঁকে ‘গো ব্যাক’ বলা হয়েছিল। সেই ঘটনায় দু’জনকে আটক করার পর তৎকালীন সরকারের নির্দেশে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এ দিনের কর্মসূচির রাজনৈতিক বার্তা শুধু যাদবপুরকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজ্যের নতুন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন শুভেন্দু। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার সময় খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রবাদের বন্ধন আরও শক্ত করতেই এই কর্মসূচি।

সব মিলিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পুরনো সংঘাত যে নতুন সরকারের আমলে আরও তীব্র হতে চলেছে, শুভেন্দুর শুক্রবারের বক্তব্যে তারই ইঙ্গিত মিলেছে। ‘হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা’—মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যাদবপুরে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কতটা কঠোর হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন