পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ফের ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-এ-ফাতেহ’ (Yadgar-e-Fatah) অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে তাঁর দাবি, পাকিস্তানের জলের প্রতিটি ফোঁটাই ‘রেড লাইন’। ভারত নিজের অবস্থান থেকে না সরলে ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শাহবাজ বলেন, ইসলামাবাদ যুদ্ধ চায় না, শান্তির পক্ষেই রয়েছে। তবে শান্তির ইচ্ছাকে যেন দুর্বলতা হিসেবে দেখা না হয়। পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার উপর কোনও আঘাত এলে তার জবাব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
শাহবাজের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জলবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পাকিস্তানের তরফে একাধিকবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এবার স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেও একই অবস্থান আরও জোরালোভাবে জানাল ইসলামাবাদ।
শুধু জল নয়, ২০২৫ সালের মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের প্রসঙ্গও টেনে আনেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই সংঘাতে পাকিস্তান জয় পেয়েছিল। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার উপর কোনও হুমকি এলে মে মাসের সংঘাতের থেকেও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি বয়ানেই ওই সংঘাতকে ‘মারকা-এ-হক’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাতের ফলাফল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। পাকিস্তান নিজেদের সাফল্য হিসেবে ঘটনাটিকে তুলে ধরলেও, ভারতও নিজেদের সামরিক অভিযানের সাফল্যের কথা জানিয়েছে। কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
শাহবাজ তাঁর বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রসঙ্গও আনেন। তাঁর দাবি, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তাঁর উদ্যোগে বহু মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
তবে এই দাবির সঙ্গে ভারতের অবস্থান মেলে না। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সরাসরি ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্তাদের যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছিল। মার্কিন মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল—এই দাবি ভারত গ্রহণ করেনি।
এদিনের ভাষণে চিনের সঙ্গেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন শাহবাজ। চিনকে ‘কঠিন সময়ে পাহাড়ের মতো পাশে থাকা বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেন। চিন-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি।
পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং তুরস্কের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে এই সম্পর্কগুলিকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবে নয়, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তির বার্তা হিসেবেও তুলে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শাহবাজ শরিফের বক্তব্যে একই সঙ্গে শান্তির বার্তা এবং ভারতের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি—দুই সুরই শোনা গেল। বিশেষ করে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ‘প্রতিটি ফোঁটা রেড লাইন’ মন্তব্য নতুন করে ভারত-পাকিস্তান জলবণ্টন বিরোধকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।



