ভারতে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের পেছনে যেমন জিনগত কারণ রয়েছে, তেমনই বড় ভূমিকা পালন করে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাবারের তালিকা ঠিক করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে বাঙালির খাদ্যতালিকায় মাছ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, কোন মাছ খেলে বেশি উপকার মিলতে পারে তা জানা প্রয়োজন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে কার্ডিওলজিস্ট ডা. মোভ্ভা শ্রীনিবাস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কয়েকটি উপকারী মাছের কথা তুলে ধরেছেন। যদিও কোনও খাবারই একা ডায়াবেটিস সারিয়ে দিতে পারে না, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এই মাছগুলি উপকারী হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
১. কড (Cod) মাছ
কড একটি লিন প্রোটিনসমৃদ্ধ সাদা মাছ। এতে ক্যালোরি কম হলেও প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। লিন প্রোটিন ধীরে হজম হয়, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হতে পারে। পাশাপাশি এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও তুলনামূলক কম থাকায় হৃদ্স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী।
২. রেনবো ট্রাউট (Rainbow Trout)
রেনবো ট্রাউটে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন ডি। ভিটামিন বি শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই পুষ্টিগুণ উপকারী হতে পারে।
৩. সার্ডিন (Sardine)
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি-তে সমৃদ্ধ সার্ডিন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি ভালো বিকল্প। এই মাছ হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
৪. হেরিং (Herring)
হেরিং মাছেও প্রচুর ওমেগা-৩, ভিটামিন ডি এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। এই পুষ্টি উপাদানগুলি প্রদাহ কমাতে, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সামগ্রিক বিপাকক্রিয়াকে সমর্থন করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি পুষ্টিকর সামুদ্রিক মাছ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৫. স্যামন (Salmon)
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছগুলির মধ্যে অন্যতম স্যামন। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি, ভিটামিন ডি, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, শুধু নির্দিষ্ট মাছ খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ওষুধ সঠিকভাবে গ্রহণ এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা, মাছে অ্যালার্জি বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



