বারুইপুর (Baruipur) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর পর সামনে এল তাঁর পরিবারের প্রতিক্রিয়া। বুধবার ভোরে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মৃত্যুর খবর জানায় বলে দাবি পরিবারের। এরপরই প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি ছেলের দেহ দেখতে বা গ্রহণ করতে চান না। তাঁর কথায়, “ও যা কাজ করেছে, তার ফল পেয়েছে।”
পরিবারের দাবি, বুধবার ভোরে পুলিশ বাড়িতে এসে প্রথমে প্রভাসের পরিচয় নিশ্চিত করে। এরপর জানানো হয়, পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণ চলাকালীন প্রভাস পালানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, সে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার সরকারি তদন্তও প্রক্রিয়াধীন।
প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল জানান, পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, প্রভাস মণ্ডল তাঁর ছেলে কি না। তিনি পরিচয় নিশ্চিত করার পর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ তাঁর ছেলের পরিচয়পত্রও চায় বলে দাবি করেন তিনি।
সন্ধ্যা মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ছেলের দেহ আনতে যাবেন না। এমনকি পরিবারের অন্য কাউকেও দেহ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, ছেলে যে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল, তার পরিণতিই সে ভোগ করেছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রভাস দীর্ঘদিন ধরেই মায়ের কথা শুনত না এবং নেশায় আসক্ত ছিল। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পরিবার সামাজিক ও মানসিক চাপে ছিল বলেও জানান প্রভাসের মা।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পরদিন এলাকার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রভাসের দেখানো পথেই উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। পরে আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাকেও গ্রেফতার করা হয়। চারজনকেই এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রভাসের মৃত্যুকে ঘিরে পৃথকভাবে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে বারুইপুর ধর্ষণ-খুন মামলার মূল তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের ইঙ্গিত।



