দক্ষিণ ২৪ পরগনা (বারুইপুর): নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নয়া মোড়। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে এই ঘটনা ঘটে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার ৪ জন। বসিরহাট থেকে এসটিএফ ও জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে কবীর মোল্লা-কে। এর আগে প্রভাস ছাড়াও আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার গ্রেপ্তার হয়েছিল। মৃত প্রভাস ছিলেন এই মামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কী ঘটেছিল সূর্যপুরে?
গত রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের পর খুনের কথা উঠে আসে। ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রভাস মণ্ডলকে আটক করে পুলিশে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজেও নাবালিকার সঙ্গে প্রভাসকে দেখা গিয়েছিল।

রাতের পুনর্নির্মাণে কী হয়েছিল?
পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাস জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করছিলেন না। তাই ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে রাতে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানেই পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস এবং পুলিশের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মৃতের পরিবারের অভিযোগ, জেরা করে তথ্য নেওয়ার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খতম করা হয়েছে। তাঁরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এই ঘটনার মধ্যে মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পলাতক অভিযুক্ত বসিরহাট থেকে গ্রেপ্তার
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন কবীর মোল্লা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি ও জেলা পুলিশ বসিরহাটে অভিযান চালায় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারুইপুরে আনা হচ্ছে। পুলিশ আশঙ্কা করছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন এবং তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মূল অভিযুক্তের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নাকি ‘পালানোর চেষ্টা’—তা এখন বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। তবে এই ঘটনার পর বারুইপুরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।






