বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু এই ঘটনার পরই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
পুলিশ সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর পুলিশ গুলি চালালে গুরুতর জখম হন প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমেই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, জেরার সময় তিনি একাধিকবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্তকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই কারণেই ঘটনার পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রম নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, গোটা ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়ম মেনেই ঘটনার তদন্তের প্রক্রিয়াও এগোবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি লিখেছেন, বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন মামলার অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঠিক কী চলছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে রাজ্যকে ‘উত্তরপ্রদেশ ২.০’ বলে উল্লেখ করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জঙ্গলরাজ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
অভিযুক্তের মৃত্যুর পর নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। পুলিশের দাবি ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত ছবি সরকারি তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।



