দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব অনেকটাই দুর্বল হলেও কলকাতায় এখনই রোদের দেখা মিলবে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সারাদিনই আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে মহানগরে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।
বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকবে বলে পূর্বাভাস। সকাল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর আর্দ্রতা বেড়ে ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জেরে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৮১ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যে থাকায় বাতাসে অস্বস্তি বজায় রয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও বাড়বে। সপ্তাহান্তে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কলকাতার জন্য আগাম হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি অনেক বেশি উদ্বেগজনক। আবহাওয়াবিদদের মতে, পূর্ব মধ্যপ্রদেশে সরে যাওয়া নিম্নচাপ এবং উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে উত্তরবঙ্গে জলীয় বাষ্পের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি অক্ষরেখাও। এই দুই ব্যবস্থার যৌথ প্রভাবেই আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পাঁচ জেলায় কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। বৃহস্পতিবার এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা কার্যকর থাকবে। অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা।
আবহাওয়া দফতর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া খারাপ আবহাওয়ায় বাইরে না বেরোনোর আবেদন জানানো হয়েছে।






