শুভেন্দুর ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’ বাস্তবে রূপ পেল বারুইপুরে! ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর?

ঘটনার পুনর্নির্মাণে পুলিশের গুলি, মৃতের পরিবারের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি, গ্রেপ্তার বাড়ল ৪-তে। রাজনৈতিক মহলে শুভেন্দুর পুরোনো বক্তব্য ঘিরে জল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। মঙ্গলবার গভীর রাতে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বারুইপুরের এসপি-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ২টা ২০ মিনিট নাগাদ অপরাধের বিভিন্ন পর্যায় পুনর্নির্মাণ করছিল পুলিশ। সেই সময় কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় সে। আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত প্রভাসের পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা। তাঁরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, তদন্তে প্রভাস সহযোগিতা করছিলেন না। তাই ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে নির্যাতিতা নাবালিকার সঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল প্রভাসকেই। তার দেখানো পথ ধরেই রেললাইনের পাশের পুকুর থেকে রবিবার সকালে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রভাসকে আটক করে পুলিশে দেয়।

এই ঘটনার আগে গতকালই বারুইপুরে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “ভিডিয়ো দেখে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।” তাঁর ঘোষণার পর পুলিশের উপর হামলা ও গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বলেছিলেন, “রেকর্ড করে রাখুন বিরোধী দলনেতার কথা, বিজেপি এলে এই ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব বিকেলে খরচ করব।” বারুইপুরের এনকাউন্টারের পর সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হবে, তবে বিতর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তার ৪ জন। বসিরহাট থেকে এসটিএফ ও জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে কবীর মোল্লা (Kabir Molla)-কে। এর আগে প্রভাস ছাড়াও আনন্দ সর্দার (Ananda Sardar) ও দিবাকর সর্দার (Divakar Sardar) গ্রেপ্তার হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন কবীর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী বসিরহাটে অভিযান চালায়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। বারুইপুরে নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশি বন্দোবস্ত বাড়ানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন