পশ্চিমবঙ্গ দিবসে মুর্শিদাবাদবাসীর জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল ভারতীয় রেল। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি বহরমপুর কোর্ট-আজিমগঞ্জ লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হল। এর ফলে বহরমপুর ও আজিমগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া এবং কর্মজীবীদের জন্য এই পরিষেবা হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা-সহ রেলের একাধিক আধিকারিক।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে যে তিনটি মেমু ট্রেন শুধুমাত্র আজিমগঞ্জ থেকে কাশিমবাজার পর্যন্ত চলাচল করত, সেগুলির পরিষেবা এবার বাড়িয়ে বহরমপুর কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে নতুন রেল সংযোগের সুবিধা পাবেন জেলার বহু মানুষ।
বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, বহুদিন ধরেই বহরমপুর থেকে আজিমগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি লোকাল ট্রেন চালুর দাবি ছিল। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হয়েছে। তিনি জানান, এই পরিষেবা চালু হওয়ায় শিক্ষা, প্রশাসনিক কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে।
চালু হওয়া তিনটি মেমু ট্রেনের সময়সূচি
প্রথম পরিষেবা ৬৩০৪২ আজিমগঞ্জ-বহরমপুর কোর্ট মেমু। ট্রেনটি সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছবে। ফেরার পথে ৬৩০৪১ বহরমপুর কোর্ট-আজিমগঞ্জ মেমু সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৮টা ২ মিনিটে আজিমগঞ্জ পৌঁছবে।
দ্বিতীয় পরিষেবা ৬৩০৪৬ আজিমগঞ্জ-বহরমপুর কোর্ট মেমু। এটি সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছবে। ফেরার ট্রেন ৬৩০৪৫ বহরমপুর কোর্ট-আজিমগঞ্জ মেমু রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে ছেড়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে আজিমগঞ্জ পৌঁছবে।
তৃতীয় পরিষেবা ৬৩০৫৮ আজিমগঞ্জ-বহরমপুর কোর্ট মেমু। ট্রেনটি রাত ৯টা ৩০ মিনিটে আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছবে। ফেরার জন্য ৬৩০৫৭ বহরমপুর কোর্ট-আজিমগঞ্জ মেমু রাত ১০টা ১২ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে আজিমগঞ্জ পৌঁছবে।
এই নতুন পরিষেবা চালুর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদীর উপর নির্মিত নশিপুর রেল সেতু। সেতুটি চালু হওয়ার ফলে আজিমগঞ্জ এবং বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের মধ্যে সরাসরি রেল সংযোগ সম্ভব হয়েছে। এতদিন যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছতে হত, যা সময়সাপেক্ষ ছিল।
নতুন এই রেল পরিষেবা শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ দিবসে রেলের এই উদ্যোগকে জেলার মানুষের জন্য এক বড় উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



