ট্রেনে বসে খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের কাপ কিংবা পানীয়র বোতল ফেলে দেওয়া—এমন অভ্যাস এবার বড়সড় জরিমানার কারণ হতে পারে। রেল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট করলে সর্বোচ্চ জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ করে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে, সেক্ষেত্রে জরিমানার অঙ্ক বেড়ে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ভারতীয় রেল (Indian Railways) চত্বরে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রক (Ministry of Railways) ২৪ অগস্ট সরকারি গেজেটে সংশ্লিষ্ট সংশোধিত বিধি প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়মে ২০১২ সালের বিধিতে পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়েছে। গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই সংশোধিত নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
কোন কোন কাজ করলে জরিমানা?
শুধু প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলে দেওয়াই নয়, রেল চত্বরে একাধিক ধরনের কাজকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকলে স্টেশন, ট্রেন কিংবা রেলের আওতাধীন অন্য কোনও জায়গায় আবর্জনা ফেলা বা জমিয়ে রাখা যাবে না।
এ ছাড়া রেল এলাকায় রান্না করা, স্নান করা, থুতু ফেলা, প্রস্রাব-পায়খানা করা, পশু-পাখিকে খাবার দেওয়া, গাড়ি ধোয়া, বাসন বা জামাকাপড় কাচা এবং বিভিন্ন সামগ্রী মজুত করার মতো কাজও নিষিদ্ধ। ফলে কামরার সিটের নীচে খাবারের প্যাকেট বা প্ল্যাটফর্মে প্লাস্টিকের কাপ-বোতল ফেলে রাখাও জরিমানার আওতায় পড়তে পারে।
রেলের সম্পত্তিতে লেখা বা আঁকলেও ব্যবস্থা
রেলের সম্পত্তি নোংরা করা বা বিকৃত করার বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ট্রেনের কামরা কিংবা রেলের অন্য কোনও সম্পত্তিতে পোস্টার লাগানো, লেখা বা ছবি আঁকা নিষিদ্ধ।
কোনওভাবে রেল সম্পত্তির ক্ষতি বা বিকৃতি ঘটালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ দেওয়াল, কামরা বা রেলের অন্য পরিকাঠামোকে ব্যক্তিগত প্রচার বা আঁকিবুঁকির জায়গা হিসেবে ব্যবহার করলে বিপাকে পড়তে পারেন।
হকার-বিক্রেতাদের জন্যও নিয়ম
রেল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব শুধু যাত্রীদের উপরই নয়। অনুমোদিত হকার ও বিক্রেতাদেরও বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডাস্টবিন বা উপযুক্ত পাত্র রাখার নির্দেশ রয়েছে।
বিক্রেতাদের সংগৃহীত বর্জ্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সরিয়ে ফেলতে হবে। অর্থাৎ খাবার বা অন্য কোনও পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তাঁদের নিতে হবে।
কারা জরিমানা করতে পারবেন?
নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নজরে এলে স্টেশন মাস্টার বা স্টেশন ম্যানেজার, কমার্শিয়াল বিভাগের টিকিট পরীক্ষক এবং অপারেটিং বিভাগের সমমর্যাদার আধিকারিকেরা জরিমানা আদায় করতে পারবেন। রেল প্রশাসনের অনুমোদিত অন্য আধিকারিকদেরও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে কী হবে?
ঘটনাস্থলে নির্ধারিত ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে বিষয়টি আদালতে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকার উপযুক্ত আদালতে অভিযুক্তকে পেশ করা হলে আদালত সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।
ফলে ট্রেন বা স্টেশনে ময়লা ফেলা, রেল সম্পত্তি নোংরা করা কিংবা অনুমতি ছাড়া সেখানে লেখা-আঁকার মতো বিষয়কে আর হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যাত্রী থেকে বিক্রেতা—সকলকেই রেল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।




