প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় থেকে ধস নেমে বড়সড় বিপদের মুখে পড়েছিল UNESCO World Heritage-এর তকমাপ্রাপ্ত শিমলা-কালকা টয় ট্রেনের রেলপথ। শনিবার রাতে কোটি ও ঘুম্মান স্টেশনের মাঝখানে ৫৭ নম্বর সেতুর কাছে পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। কালকা থেকে ৩৯১ জন যাত্রী এবং ৪০ জন রেলকর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রবিবার নর্দান রেলওয়ের তরফে বিবৃতি দিয়ে ঘটনার কথা জানানো হয়। রেল সূত্রে খবর, শনিবার রাত থেকেই শিমলা ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে কোটি-ঘুম্মান স্টেশনের মধ্যবর্তী ৫৭ নম্বর ব্রিজের কাছে ধস নামে।
ধসের জেরে ওই অংশে রেল চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত উদ্ধার ও যাত্রী সরানোর কাজ শুরু করে রেল এবং প্রশাসন। সেই সময় কালকা স্টেশনে ছিলেন ৩৯১ জন যাত্রী। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ৪০ জন রেলকর্মী। কোনও যাত্রী বা কর্মী যাতে বিপদের মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করেই শুরু হয় তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় পাঁচটি বাস এবং দু’টি টেম্পো। সোলান, কোটি এবং ধরমপুর থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। অধিকাংশ পর্যটককে সড়কপথে গাড়িতে করে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে প্রায় ১২০ জন পর্যটককে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয় রেলকে। তাঁদের জন্য রাত দেড়টা নাগাদ একটি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়। এর মাধ্যমে আটকে থাকা পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
নর্দান রেলের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজে কোনও বড় ধরনের সমস্যা হয়নি। যাত্রী এবং রেলকর্মী—সকলকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, ধসের ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
শিমলা-কালকা রেলপথের ঐতিহাসিক গুরুত্বও যথেষ্ট। UNESCO World Heritage হিসেবে স্বীকৃত এই পাহাড়ি রেলপথ পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। ফলে বর্ষার মরশুমে এই লাইনে ধস নামার ঘটনা শুধু রেল পরিষেবাকেই নয়, পাহাড়ি পর্যটন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
টানা বৃষ্টিতে হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা এখনও রয়েছে। তাই রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরীক্ষা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে শনিবার রাতের ঘটনায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়িয়ে ৪০০-রও বেশি যাত্রী ও রেলকর্মী নিরাপদে বেরিয়ে আসায় আপাতত স্বস্তি রেল কর্তৃপক্ষের।



