দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান। পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে আত্মগোপন করেও শেষরক্ষা হল না বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের। বুধবার ভোরে ওড়িশার পুরীর একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, পুরীর সমুদ্রতীরবর্তী একটি হোটেলে পরিচয় গোপন করে ছিলেন দিলীপ মণ্ডল। বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রানজিট রিমান্ডের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয় ভোটের ফল প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবে অভিযোগ ওঠে সেখানে বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক মন্তব্য করা হয়েছিল। ওই অভিযোগকে ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।
এরপর গত ১৪ মে পৈলানে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি ঘিরে আলোড়ন তৈরি হয় এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযানের সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
পরে তাঁর ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল-সহ কয়েকজনকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল এবং এলাকায় অশান্তি তৈরির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় দিলীপ মণ্ডল আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন বলেও জানা যায়। তবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত পুরী থেকেই তাঁকে আটক করা হল।
এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয় সেদিকে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাঁকে দোষী বলা যায় না।



