৬ মাসের ‘সিক্রেট অপারেশন’! তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা চিহ্নিত কেন্দ্রের রিপোর্টে, টেরই পায়নি রাজ্য!

ছয় মাস ধরে গোপনে রাজ্য জুড়ে তথ্য সংগ্রহের দাবি কেন্দ্রীয় সূত্রের। দুষ্কৃতীদের তালিকা তৈরি করে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর দাবি—পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ছয় মাস ধরে নীরবে তথ্য সংগ্রহ চালিয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। জেলার পর জেলা ঘুরে স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক বাস্তবতা, প্রভাবশালী দুষ্কৃতী এবং তাদের নেটওয়ার্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশদ রিপোর্ট, যা সরাসরি পৌঁছেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে। আর এই গোপন তৎপরতার আঁচ নাকি পায়নি রাজ্য প্রশাসন।

সূত্রের দাবি, প্রায় সবক’টি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তথ্য জোগাড় করেন গোয়েন্দারা। কোথায় কার প্রভাব, কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, কোন এলাকায় ভোটদানে বাধা তৈরি হয়—এই সব বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় স্তর থেকে বিশেষ টিম বারবার রাজ্যে এসেছে এবং ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করেছে।

এই গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তায় চালানো হয় বলে জানা যাচ্ছে। নির্দেশ ছিল, কোনওভাবেই যেন এই তৎপরতার খবর বাইরে না যায়। কারণ, আগেভাগে তথ্য ফাঁস হলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বদলে যেতে পারত। সেই কারণেই স্থানীয় স্তরে নজর এড়িয়ে, সরাসরি গ্রাম ও ব্লক পর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে বিভিন্ন অভিযোগ—কোথাও ভোটারদের ভয় দেখানো, কোথাও রাস্তা আটকে দেওয়ার মতো ঘটনা। পাশাপাশি, কারা এলাকায় প্রভাবশালী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এমনকি, সম্ভাব্য অস্ত্র মজুত সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এই সব তথ্য একত্র করে তৈরি হয়েছে একটি বিশদ তালিকা, যেখানে অভিযুক্তদের পরিচয় ও কার্যকলাপ উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই তালিকা নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিকল্পিত তথ্য সংগ্রহই নির্বাচনে কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

এখন নজর ভবিষ্যতের দিকে। নতুন সরকার গঠনের পর এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন