মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিজেপি ও কংগ্রেসের পাশাপাশি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের ‘দু-মুখো রাজনীতি’ নিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নওদার সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—দলের জার্সি পরে অন্য দলকে সাহায্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার মুর্শিদাবাদের নওদায় তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তৃণমূলের কিছু কর্মী ও বুথস্তরের নেতা গোপনে হুমায়ুন কবীরের দলকে সাহায্য করছেন।
এই প্রেক্ষিতে তিনি বলেন,
“যাঁরা যে দলের জার্সি পরে আছেন, সেই দলের হয়েই খেলুন। অন্য দলের হয়ে খেললে একমাস পরে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে করে দেওয়া হবে।”
তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট—দলের ভিতরে ভাঙন বা গোপন সমর্থন কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না তৃণমূল।
গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেও কড়া বার্তা
সভায় পৌঁছনোর আগেই নওদায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনা সামনে আসে।
প্রাক্তন জেলা পরিষদ সভাধিপতি মোশারফ হোসেনের অনুগামী ও ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান শেখের গোষ্ঠীর মধ্যে চেয়ার দখল নিয়ে বচসা বাধে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেক কড়া হুঁশিয়ারি দেন—
“আমার সবার উপর নজর আছে। বিশৃঙ্খলা করলে দল ক্ষমা করবে না। আমি কিন্তু ওয়ার্নিং দিয়ে যাচ্ছি।”
নিশানায় কারা?
অভিষেকের বক্তব্যে সরাসরি আক্রমণ শানানো হয়—
- কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী
- আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি মুর্শিদাবাদে জিততে “তিনটি এজেন্ট” নামিয়েছে—যাঁদের মধ্যে এই দুই নেতার নামও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ? অভিষেকের জবাব
নওদা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী সাহিনা মমতাজকে ঘিরে কিছু অসন্তোষ থাকলেও, তা ভুলে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান অভিষেক।
তিনি বলেন,
“যদি প্রার্থী নিয়ে কোনও সমস্যা থাকে, মনে করবেন নওদায় আপনাদের প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে দেখে ভোট দেবেন।”
অভিষেকের দাবি, শুরুতে জেলার কিছু নেতা হুমায়ুন কবীরের পাশে থাকলেও এখন অনেকেই সরে আসছেন। তাঁর কথায়, হুমায়ুনের সাম্প্রতিক আচরণ ও বক্তব্যে অনেকেই অসন্তুষ্ট।
এই সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন—
✔️ দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা
✔️ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে শূন্য সহনশীলতা
✔️ নতুন প্রতিপক্ষকেও সরাসরি মোকাবিলা
মুর্শিদাবাদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আবহে এই বার্তা যে তৃণমূলের সংগঠনকে চাঙা করতেই দেওয়া হয়েছে, তা বলাই যায়।



