দুয়ারে ভোট, চারদিকে প্রচারের ঝড়—ঠিক এই সময়েই রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ধাক্কা। বসিরহাটের বাদুড়িয়া কেন্দ্রের বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম হঠাৎই ছাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেস। টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভ, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন’ অবস্থান—এই তিনের সমন্বয়েই বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত তাঁর। ভোটের ঠিক আগে এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছিল একাধিক মহল থেকে। সেই অসন্তোষেরই প্রকাশ ঘটালেন বাদুড়িয়ার বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম। দল তাঁকে এবার প্রার্থী না করায়, প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি—প্রথমে সংবাদমাধ্যমে, পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে।
নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের ভিতরে বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ‘ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি’-তেই তিনি হতাশ। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের কঠিন সময়ে যারা দলের পাশে ছিলেন, তাঁদের উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং যারা অতীতে দলের বিরোধিতা করেছেন, তাঁদেরই এবার প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টে রহিম লিখেছেন—
“আমি সবসময় সত্য, ন্যায় ও আদর্শের পথে চলেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়—এই শিক্ষাই পেয়েছি পরিবার থেকে।”
এরপরই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করেন। পাশাপাশি দলীয় রাজ্য সভাপতিকে চিঠি পাঠানোর কথাও জানান, যা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ একই দিনে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় সফরে আসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই এই পদত্যাগ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলা রাজনীতিতে।
উল্লেখ্য, বসিরহাট অঞ্চলে এবারের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে তৃণমূল। সাতটি আসনের মধ্যে ছয়টিতেই বর্তমান বিধায়কদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদুড়িয়ায় দলের নতুন মুখ হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে নামছেন বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন।
রহিমের এই সিদ্ধান্তে শুধু একটি আসন নয়, গোটা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।



