নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাতজোড় করে বলছি একদিনে ভোট করান, মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না! হেমতাবাদে তৃণমূলের ভোটের প্রচার সভা থেকে এভাবেই নির্বাচন কমিশন কে আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ক্রমবর্ধমান কোভিড পরিস্থিতিকে বাগে আনতে একাধিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তারমধ্যেই প্রকাশ্য সভা থেকে এভাবে কমিশন কে আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ আপাতত লকডাউন হচ্ছে না বাংলায়, ঝড় মোকাবিলা করার অভয় বার্তা মমতার।
এদিকে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দলীয় কোন বড় সভা না করার ঘোষণা করেছে তৃণমূল। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তিনি বিভিন্ন জেলায় মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর যাবতীয় কর্মসূচির সময় কমিয়ে ফেলছেন। গতকাল রাতে ডেরেক ও’ ব্রায়েন জানিয়েছেন, কলকাতার বাইরে সমস্ত জনসভা ও কর্মসূচি আধ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাছাড়া কলকাতাতেও ২৬ তারিখ একটি প্রতীকী জনসভা ছাড়া আর কোন বড় কর্মসূচী থাকছে না তাঁর।
হেমতাবাদে জনসভার কিছুক্ষন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন মালদা থেকে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান। সব থেকে বড় কথা নিজেদের দলীয় অবস্থানের কথাও ব্যাখ্যা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সভা বাতিল করলেও আমি মানুষের পাশে আছি।” রাজ্যবাসীকে ভয় না পাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এখনই লকডাউনের কোনও চিন্তা নেই। লকডাউন করলেই সব কমে যাবে? মানুষকে একটু সময় দিতে হবে না? বাইরে থেকে হাজার হাজার লোক আসছে, করোনা সেখানেও ছড়াচ্ছে। লকডাউন করলে তো মানুষের কষ্ট হবে।”
আরও পড়ুনঃ বঙ্গ ভোটের গোয়েন্দা রিপোর্ট দেখে বিজেপির নেতাদের কালঘাম ছুটল! কি বলছে সেই রিপোর্ট?
তাঁর ব্যাখ্যা, “যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছি। অকারণ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব, ঝড় মোকাবিলা করার। ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না।”
হাতজোড় করে বলছি একদিনে ভোট করান, মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না! নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে তিনি জানান, “আমি অনুরোধ করেছিলাম, শেষ দফার নির্বাচন একসঙ্গে করতে, কিন্তু করা হয়নি। তাই অসুবিধা হয়েছে। বিহারে তিনটি দফা হয়েছে, বাংলায় কেন ৮টি দফা? আর করোনার পরিস্থিতি এখন বাড়াবাড়ি হয়েছে, এখন তো ভাবা উচিত।” তাঁর কথায়, “আগেরবার রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি সামলেছি, এবারও আমি সামলে নেব।”



