নজরবন্দি ব্যুরোঃ আপাতত লকডাউন হচ্ছে না বাংলায়। তবে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত স্কুল। করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদা থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অকারণ ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। বাইরে থেকে অনেক লোক আসছে, সেই কারণে করোনা সংক্রমন ছড়াচ্ছে। বাজারে অনেক ওষুধ, ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে না। টিকাও পাওয়া যাচ্ছে না পরিমান মত।”
আরও পড়ুনঃ বঙ্গ ভোটের গোয়েন্দা রিপোর্ট দেখে বিজেপির নেতাদের কালঘাম ছুটল! কি বলছে সেই রিপোর্ট?
করোনা মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “করোনা আক্রান্তদের জন্যে সাড়ে চার হাজার বেড বাড়বে রাজ্যে।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “১০০টি হাসপাতাল করোনার জন্য তৈরি রয়েছে, সাথে ৫৮টি বেসরকারি হাসপাতাল নেওয়া রয়েছে কোভিড প্রতিরোধে। তৈরি রয়েছে ২০০ সেফ হোম, সেখানে ১১ হাজার শয্যা রয়েছে। দিবারাত্রি ৪০০ অ্যাম্বুল্যান্স কাজ করবে রাজ্যজুড়ে। ”
মমতা বঙ্গবাসীদের কাছে আবেদন করে বলেন, “যাঁদের প্রয়োজন, তাঁরাই হাসপাতালে ভর্তি হন। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা ভর্তি হবেন না।” সাথে কাজকর্ম নিয়ে ওয়ার্ক ফ্রম হোম-এ জোর দেন তিনি। তাঁর কথায়, “ওয়ার্ক ফ্রম হোমে জোর দেওয়া হচ্ছে। অফিসগুলিতে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ চালাতে হবে।” করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছি বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় প্রচার নিয়ে তাঁর ঘোষণা, “ছোট ছোট সভা করা হবে নির্বাচনের প্রচারে। কলকাতায় ২৬ তারিখ একটিই বড় সভা।” তিনি বলেন, “কার্ফু কোনও সমাধান নয়। রাত্রিকালীন কার্ফু করে কিছু হবে না। ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।” আপাতত লকডাউন হচ্ছে না বাংলায়। তাঁর ব্যাখ্যা, “এখনই লকডাউনের কোনও চিন্তা নেই। লকডাউন করলেই সব কমে যাবে? মানুষকে একটু সময় দিতে হবে না? বাইরে থেকে হাজার হাজার লোক আসছে, করোনা সেখানেও ছড়াচ্ছে। লকডাউন করলে তো মানুষের কষ্ট হবে।”
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক নিয়ে মমতা বলেন, ‘চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন কে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, “নির্বাচন ঘোষণার সময় ভাল করে ভাবা উচিত ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারেরও ভাবা উচিত ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার এতদিন কিছু করেনি। বিভিন্ন সরকারি হোটেলে ‘সেফ হোম’ তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের আরটি-পিসিআর করোনা পরীক্ষা করার কথা বলেছি। আমরা চেষ্টা করব, ঝড় মোকাবিলা করার। ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না।”



