নজরবন্দি ব্যুরো: বঙ্গ ভোটের গোয়েন্দা রিপোর্ট দেখে কালঘাম ছুটল বিজেপির নেতাদের! মুখে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন রাজ্যে এ পর্যন্ত হওয়া ৫ দফায় অন্তত ১২০ টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তবে মুখে যাই বলুন বাস্তবের সঙ্গে তার যে বিস্তর ফারাক তা গোয়েন্দা রিপোর্টেই জানতে পেরেছেন বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এই নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের ওপর। সেই ক্ষোভ ফেটে বেরিয়ে এলো দলের সাংগঠনিক বৈঠকে।
আরও পড়ুনঃ লকডাউনের পথে হাঁটল দিল্লী সরকার। আজ থেকে ৬ দিন লকডাউন দিল্লীতে
যার জেরে ভয়ে কার্যত মুখে কুলুপ বিজেপির রাজ্য নেতাদের। বৈঠকে কেন্দ্র ধরে ধরে রাজ্য নেতারা দাবি করেন ৫ পর্বে ১২০টির কাছাকাছি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু বৈঠকে থাকা রাজ্যের এক শীর্ষ নেতা জানাচ্ছেন, নেতাদের রিপাের্ট পেশের সময় চুপ করে সব শােনেন শাহ। হঠাৎই মেজাজ হারান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শীর্ষ নেতাদের ধমকের সুরে বলেন, যা বলছেন, তার পিছনে তথ্য কী আছে? নেতারা বুথভিত্তিক ও সাংগঠনিক রিপোর্টের কথা বলেন।
বঙ্গ ভোটের গোয়েন্দা রিপোর্ট দেখে অস্বস্তি বাড়ে গেরুয়া শিবিরে। এরপরই অমিত শাহ তাদের সামনে ফেলেন পাঁচ দফার গােয়েন্দা রিপোর্টে। সেই রিপোর্টে দেখা যায় ভােট শেষ হওয়া ৫ পর্বে বিজেপি মেরেকেটে ৫২ থেকে সর্বোচ্চ ৬৩টি আসন পেতে পারে। আর শেষ তিন দফায় সর্বোচ্চ ৩৪টি আসন হাতে আসতে পারে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৯৭। উত্তরবঙ্গে অমিত বর্মন ইস্যুতে যদি জাত-পাতের সুরসুরি লাগানােয় সফল হওয়া যায়, তাহলে আসন গোটা ৫-৭ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে আসন সংখ্যা হবে ১০৪।
ম্যাজিক ফিগার থেকে বিজেপি পিছিয়ে প্রায় ৪৫টি আসনে। আর এটাই রাতের ঘুম ছুটিয়েছে বিজেপি নেতাদের। কারণ এত ঢাকঢোল পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার গড়তে গেস্ট হাউস প্রজেক্ট’-এ নামতে হলে আর লজ্জার সীমা থাকবে না। তাই আগামী পর্বে নির্বাচনের জন্য নেওয়া হয়েছে একাধিক কৌশল। যেমন প্রচারে আরো জোর আনা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বৃদ্ধি।
নিয়ম করে অডিও ও ভিডিও ছাড়া এবং মানসিক যুদ্ধ বজায় রেখে সর্বদা ২০০ এর বেশী আসন পাওয়ার কথা বলা ইত্যাদি। তবে সব কৌশল আদৌ বিজেপি কে নবান্ন দখলের লক্ষে নিয়ে যেতে পারে কিনা তা জানা যাবে আগামী ২ রা মে নির্বাচনের ফলাফলের দিন।



