বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসা ফের মাথাচাড়া দিল। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খুলনায় গুলিবিদ্ধ হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শ্রমিক সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা। ঘটনায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওপার বাংলায়।
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ সোনাডাঙা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয় এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদার-কে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
সোনাডাঙা মডেল থানা-র ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মণ্ডল জানিয়েছেন, হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কে বা কারা গুলি চালাল, এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোতালেব শিকদার ছিলেন এনসিপি-র খুলনা বিভাগীয় শ্রমিক সংগঠনের প্রধান। আগামী দিনে খুলনায় দলের একটি বড় শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, তার প্রস্তুতিতেই তিনি ব্যস্ত ছিলেন।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও গভীর। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম মুখ ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের নির্দল প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাংলাদেশের হাসপাতালে, পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদি ছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। সেই আন্দোলনের নেতারাই পরে গড়ে তোলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি। ফলে একের পর এক বিরোধী নেতার উপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে।
এই ধারাবাহিক হিংসার প্রেক্ষিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন।
খুলনার ঘটনার পর গোটা বাংলাদেশেই বাড়তি সতর্কতা জারি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সামনে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই হিংসার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে—যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা।



