আনন্দ, উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন বীরভূমের তৃণমূল কর্মীরা। কারণটা এতক্ষণে সকলেরই জানা, দু’বছর জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সোমবার তিহাড় থেকে রাতে ছাড়া পান তিনি। মঙ্গলবার পা রাখলেন নিজের বাড়িতে। তাঁকে ঘিরে ধরে চলল স্লোগান, পুষ্পবৃষ্টি। সূত্রের খবর, আজই স্নেহের কেষ্টর সঙ্গে একান্ত আলোচনায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গরু পাচার মামলায় ২০২২ সালের ১১ অগস্ট বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। এরপরেই মমতা সাফ বলেন, কেষ্টকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব। আর আজ কার্যত তাই হতে চলেছে। প্রথমে খবর ছিল, প্রশাসনিক বৈঠকেই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা হবে তৃণমূলনেত্রীর। কিন্তু, জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক বৈঠকের পর সরকারি গেস্ট হাউস ‘রাঙাবিতান’-এ অনুব্রত যাবেন মমতার সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদের মধ্যে একান্তে আলাপ-আলোচনা হবে। ফের একবার বীরভূমের জেলা সভাপতির দায়িত্ব অনুব্রতর হাতে তুলে দিতে পারেন দিদি!
অনুব্রত গ্রেফতার হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল, এটা ষড়যন্ত্র, ও একদিন ছাড়া পেয়ে যাবে। সেই কারণেই বীরভূমের জেলা সভাপতির পদটি তৃণমূলনেত্রী ফাঁকা রেখেছিলেন। কিছুদিনের জন্য লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, সংগঠনের কাজ চালাতে গড়ে দিয়েছিলেন কোর কমিটি। এবার দু’বছর পর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ফের একবার বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব অনুব্রত মণ্ডলের হাতে তুলে দিতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশাসনিক বৈঠকে আজ বীরভূম গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তাঁর সাথে দেখা করার কথা ছিল অনুব্রতর। কিন্তু, একান্ত আলাপচারিতাতেই কেষ্টর সঙ্গে বসতে চান তৃণমূলনেত্রী। অনুব্রত দেখা করার বিষয়ে বলেছেন, “দিদির সঙ্গে অবশ্যই দেখা করার ইচ্ছে রয়েছে। এখন দেখা যাক কি হয়। গোটা রাজ্যের মানুষ মমতা ব্যানার্জির পাশে আছে, আমি চিরকাল থাকব।”



