প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে সরিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস হাই কমান্ড। সেই জায়গায় এসেছেন শুভঙ্কর সরকার। মনে করা হচ্ছে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ‘কড়া’ সমালোচক ছিলেন বলেই অধীরকে সরিয়ে মমতার প্রশ্নে তুলনায় ‘নরমপন্থী’ শুভঙ্করকে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাত শিবির। এখানেই এখন প্রশ্ন, তাহলে আগামী দিনে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঠিক কি হতে চলেছে?
১৯৯৯ সাল থেকে বহরমপুর লোকসভা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দৌলতে কংগ্রেসের দখলে। টানা পাঁচবারের সাংসদ তিনি। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অধীর যে রাজনীতিতে নবাগত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে যাবেন তা বোধহয় কোনও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই কল্পনা করতে পারেননি। ঘটনাচক্রে যদিও তাই সত্যি হয়েছে। ডবল হ্যাটট্রিক করা হয়নি অধীরের। হেরে যাওয়ার পর হাই কমান্ডের কাছে তিনি বার্তা দেন, হিন্দু ও মুসলিম ভোট বিভাজনের কারণেই আমি হেরে গিয়েছি। এরপর থেকেই অধীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানান জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে একটা ধারণা ছিল, হয়তো প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে অধীর রঞ্জনকে বহাল রাখা হতে পারে। কিন্তু সেটাও হল না। সরিয়ে দেওয়া হলো বহরমপুরের টাইগারকে। যদিও তিনি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কমিটিতে রয়েছেন। কিন্তু তাতে কি আসে যায়!
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর অধীর অনেকটাই বিমর্ষ। ঘনিষ্ঠ বেশ কিছু কংগ্রেস নেতা তাঁকে ফোন করলেও তিনি সেই ফোন ধরেননি। অনেকে এও বলছিলেন, অধীর সম্ভবত বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন। যদিও সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ইঙ্গিত নেই। অন্যদিকে, অধীরের বদলে শুভঙ্করকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে সনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেরা জোড়া বার্তা দিতে চাইলেন। এক, এক অতিরিক্ত তৃণমূল বিরোধিতা চলবে না। দুই, সিপিআইএমের সঙ্গে এই গাঁটছড়ার নিট ফল শূন্য।
কিন্তু অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মত একজন হোলটাইমার রাজনীতিবিদের কাছে এইভাবে কোণঠাসা হয়ে থাকা কতদিন সম্ভব? তিনি তো কংগ্রেসকে রাজ্যে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থেই তৃণমূলের বিরোধিতা করছিলেন। আরেকটা বিষয়, বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ‘মসৃণ’ হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে সিপিআইএম। যদিও বামেরা এখনও কংগ্রেসকে নিয়ে সরাসরি কোনও কটাক্ষ করতে চাইছে না। এখানেই অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সামনে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে লড়তে পারেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেক্ষেত্রে হয়তো তাঁকে হাইকমান্ডের সামনে কিছুটা ‘নমনীয়’ ভাব দেখাতে হতে পারে।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অতীত বলছে, তিনি জীবনে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনেই লড়েছিলেন, ১৯৯১ সালে। নবগ্রাম বিধানসভা থেকে লড়ে হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরে যান। এরপর ১৯৯৬ সালে ওই একই আসন থেকে ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা চালিয়ে রাখার জন্য ২৬ বিধানসভায় অধীর কি কংগ্রেসের হয়েই লড়বেন নাকি দলবদল করবেন? উত্তর দেবে সময়।



