নজরবন্দি ব্যুরো: করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। অবশেষে দেড় মাসের মাথায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যসভায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করলেন। রেলকর্মীদের গাফিলতির জেরেই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ইতিমধ্যেই তিনজন রেলকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এবার প্রকাশ্যে এল রেলওয়ে সেফটি কমিশনারের রিপোর্ট।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসে চুপ মমতা, কিন্তু এই নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না অধীর, কী বললেন কং প্রদেশ সভাপতি?
গত বৃহস্পতিবার থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। দুই কক্ষেই বিরোধীরা করমণ্ডল দুর্ঘটনা সহ নানা ইস্যুতেআলোচনার দাবি জানিয়েছে। শুক্রবার রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির রিপোর্ট উল্লেখ করে একটি রিপোর্ট পেশ করেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘বাহানগা বাজার স্টেশনের কাছে একটি লেভেল ক্রসিংয়ের রেল গেট পরিবর্তনের কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে সংযুক্ত সিগন্যালিং ব্যবস্থার সার্কিটে অদল বদল হয়ে যায়। এই ভুলের কারণেই করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে মেইন লাইন দিয়ে যাওয়ার সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্রসওভারের কাছে পয়েন্ট সেট করা ছিল লুপ লাইনের দিকে। যার ফলে করমণ্ডল মেইন লাইন ছেড়ে লুপ লাইনে ঢুকে পড়ে।’

এদিন রাজ্যসভায় পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই পর্যন্ত করমণ্ডল বিপর্যয়ে মৃত ২৯৫ জনের মধ্যে ২৫৪ জনের দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪১ জনের মৃতদেহ এখনও ওড়িশার ভুবনেশ্বরের এইমসে পড়ে রয়েছে। এই মৃতদেহগুলির ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণের জন্য নয়া দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনার আসল কারণ নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সামনে এলেও পরবর্তীকালে তা খারিজ করে দাবি করা হয় গাফিলতির জেরেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সিবিআই তদন্ত শুরু করে।

সিবিআই তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে না চাওয়ায় এতদিন কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে শুক্রবার আসল কারণ সামনে এল। উল্লেখ্য, গত ২ জুন ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস ও একটি মালগাড়ি। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়ে ২৯৫ জনের। আহতের সংখ্যা ১২০০-র বেশি।
করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার মূল কারণ কী? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ রেলমন্ত্রীর




