দুর্গাপুজো নিয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ বার পুজো ও বিসর্জনে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি মহাষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান এবং বার বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। পুজো কমিটিগুলির জন্য বিদ্যুৎ খরচ নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে এ বছর দুর্গাপুজোর কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বড় বাজেটের এবং আর্থিক ভাবে সক্ষম পুজো কমিটিগুলিকে সেই অনুদান না নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। [দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান ১ লক্ষ টাকা, বড় বাজেটের পুজো কমিটিকে বার্তা শুভেন্দুর]
পুজোয় ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় এ বার পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হল ডিজে নিয়ে। পুজোর দিনগুলিতে তো বটেই, বিসর্জনের সময়ও ডিজে বাজানো যাবে না। শব্দদূষণ এবং পুজোর পরিবেশের কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে।
শুধু ডিজে নয়, পুজোর উদ্বোধন নিয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিতৃপক্ষ বা দেবীপক্ষ শুরুর আগে পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
অষ্টমীতে মদের দোকান, বার—সব বন্ধ
দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন রাজ্যে মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পানশালাতেও মদ বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে অষ্টমীর দিন মদ বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যত ‘ড্রাই ডে’-এর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এর আগে পুজোর সময় মদ বিক্রি নিয়ে একাধিকবার রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। ২০২৬ সালের পুজোয় সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অষ্টমীর দিন মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার কথা স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার।
পুজো কমিটিকে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না
পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে বিদ্যুতের জন্য কোনও মূল্য দিতে হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ফলে পুজোর আয়োজনের খরচের ক্ষেত্রে কমিটিগুলি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
রাস্তা আটকে পুজো নয়
পুজোর কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় সড়ক আটকে পুজো করা যাবে না। কলকাতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ১৩টি রাস্তা আটকে পুজোর আয়োজন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া পুজোর থিম, প্রতিমা বা মণ্ডপসজ্জায় এমন কিছু করা যাবে না, যাতে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে—সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
কবে শেষ করতে হবে বিসর্জন?
২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পড়েছে ২৫ অক্টোবর। তাই তার আগেই দুর্গাপুজোর বিসর্জন পর্ব শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই নিরঞ্জন শেষ করতে হবে।
সব মিলিয়ে এ বার দুর্গাপুজোয় একাধিক বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা সামনে এল। একদিকে পুজো কমিটিগুলির জন্য এক লক্ষ টাকা অনুদান এবং বিদ্যুৎ খরচে ছাড়ের ঘোষণা, অন্যদিকে ডিজে, মদ বিক্রি, রাস্তা আটকে পুজো এবং উদ্বোধনের সময়সীমা নিয়ে বিধিনিষেধ—২০২৬-এর শারদোৎসব ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান যে যথেষ্ট স্পষ্ট, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তা পরিষ্কার।



