নজরবন্দি ব্যুরো: বাগুইআটি জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। শুক্রবার সকালে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে দুই ছাত্র অতনু দে ও অভিষেক নস্কর খুনে মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরিকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ। ট্রেনের টিকিট কেটে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রায় গুটিয়েই এনেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কারেন্ট চলে গিয়ে ভেস্তে গেল তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা। কারেন্টের জন্য অপেক্ষারত সত্যেন্দ্রকে ধরার অনেকটা সময় পেয়ে যায় পুলিশ।
আরও পড়ুন: সত্যেন্দ্রর ফাঁসির দাবিতে সরব হল মৃতদের পরিবার, আজই আদালতে পেশ
গ্রেফতারি প্রসঙ্গে অভিষেকের বাবা বলেন, ‘‘আমরা শাস্তি চাই। শুধু ফাঁসি দিলে হবে না। প্রথমে দুটো হাত কেটে দিতে হবে। যে হাত দিয়ে এই কাজ করেছে, এর পর জনগণ দেখবে জ্বালার কী মর্ম। এর থেকেও যদি কঠিন শাস্তি থাকে, সব থেকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে সারা দেশে এই কাজ করার আর কেউ সাহস দেখাতে না পারে।’’
ইতিমধ্যে সত্যেন্দ্রের ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করে সিআইডি। পাল্টা সত্যেন্দ্র তাঁর হয়ে সওয়াল করার জন্য আদালতের কাছে সরকারি আইনজীবী চেয়ে আবেদন করেন। আদালত সত্যেন্দ্রের জন্য সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করলে তিনি সত্যেন্দ্রের জামিনের আর্জি জানান আদালতে। সরকারি আইনজীবীর যুক্তি ছিল, সত্যেন্দ্রই যে খুন করেছেন, তার কোনও প্রমাণ নেই। কারণ খুনের ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই।

অন্য দিকে, সিআইডি জানায়, বাগুইআটির ওই দুই ছাত্রকে কেন খুন করা হয়েছে, কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে সত্যেন্দ্রকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা জরুরি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানিয়ে দেয়, আগামী ১৪ দিন সিআইডি হেফাজতেই থাকবেন সত্যেন্দ্র।
সঙ্গীদের টাকা দেওয়ার নাম করে পালিয়ে যায় সত্যেন্দ্র, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, আগে থেকেই ২ কিশোরকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল সত্যেন্দ্র। জগত্পুর বাজার এলাকা থেকে সে দড়িও কিনে এনেছিল। সঙ্গীদের বলেছিল, কাজ মিটে গেলেই মোটা অঙ্কের টাকা দেবে। খুনের পর সঙ্গীদের নিয়ে সত্যেন্দ্র কেষ্টপুর এলাকায় চলে আসে। ফেরত দেয় ভাড়া নেওয়া গাড়িটি। সঙ্গীরা টাকা চাইলে এক জায়গায় তাদের দাঁড় করিয়ে রেখে অন্ধকার গলি দিয়ে পালিয়ে যায় সত্যেন্দ্র।



