নজরবন্দি ব্যুরোঃ শ্বাসকষ্ট থাকায় ফেরাল ৩ হাসপাতাল। অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত ২৮ এর যুবক। একদিকে যখন দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের উৎসব চলছে তখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ২৮ বছরের যুবক। ঘটনাস্থল ফের সেই পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের তিনটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হল তাঁর। যুবকের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগণা, ব্যারাকপুরের বড় কাঁঠালিয়া। সপ্তাহ খানেক আগে স্নায়ুর সমস্যা হওয়ায় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। যদিও সেখানে তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। তখন ব্যারাকপুর পুরসভার মাতৃসদনে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে স্নায়ুর চিকিৎসক নেই বলে দিন চারেক আগে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ সংক্রমণে হাওড়া কে ছাপিয়ে গেল পূর্ব মেদিনীপুর। দক্ষিণের ঘাড়ে নিঃশ্বাস উত্তরের।


বাড়ি ফেরার একদিনের মধ্যেই যুবকের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় ফের বাড়ির লোকজন যুবক কে নিয়ে ফের ব্যারাকপুর মাতৃসদনে নিয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট দেখে করোনা উপসর্গ মনে করে অসুস্থ যুবক কে ফিরিয়ে দেয় মাতৃসদন। এরপর ওই যুবক কে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে, সেখানেও শ্বাসকষ্ট শুনেই তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর যুবকের বাড়ির লোক তাঁকে নিয়ে যায় বিএন বসু হাসপাতালে। সেখানেও ভর্তি নেওয়া হয় না যুবক কে। জানিয়ে দেওয়া হয় বেড নেই। এরপর অনেক অনুরোধ শুনে একটি ইঞ্জেকশন এবং অক্সিজেন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্বাসকষ্ট থাকায় ফেরাল ৩ হাসপাতাল। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা পরিবার চতুর্থ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় যুবকের। যুবকের বাবা জানিয়েছেন, “শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় ওকে মাতৃসদনে নিয়ে যাই। ওরা করোনা সন্দেহে ভর্তি নেয়নি। একটি নার্সিংহোমে গেলে শ্বাসকষ্ট শুনেই বলে, ডাক্তার নেই। তখন বিএন বসু হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেও বলা হয় বেড নেই। তার পরে একটি ইঞ্জেকশন ও অক্সিজেন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
উল্লেখ্য কদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন রাজ্যের কোন হাসপাতাল কোন রোগীকেই ফেরাতে পারবে না। এমন কি দুদিন আগে করোনা চিকিৎসার জন্যে অধিগৃহীত হাসপাতাল গুলির রেট চার্ট বেঁধে দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু কিছুতেই যে কিছু হওয়ার নয় তা আবার প্রমানিত হল এই যুবকের অকাল মৃত্যুর ঘটনায়। এখন দেখার আর কতজনকে রাজ্যে এভাবে বিনা চিকিৎসায় মরতে হয়।









