ভয়াবহ সংক্রমণের জেরে বাতিল হল ২৯ জোড়া লোকাল ট্রেন, লকডাউনের ইঙ্গিত?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মারণ ভাইরাস করোনার কবলে দেশ। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যে দিল্লী, রাজস্থানের মত একাধিক রাজ্য হেঁটেছে পূর্ণ লকডাউনের পথে। পিছিয়ে নেই বঙ্গও। ভোট মরসুমে করোনা যেন নিজের পছন্দের পিচে ঝোড়ো ব্যাটিং করছে করোনা। ভয়াবহ সংক্রমণের জেরে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন আট হাজারের বেশী মানুষ। এমন অবস্থায় একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে পূর্ব রেলের কর্মীরা। যার জেরে প্রতিদিনই বাতিল হচ্ছে একের পর এক ট্রেন।

আরও পড়ুনঃ সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে, ব্যাপক করোনা সংক্রমণেও জনসভা চালিয়ে যাবেন মোদী!

গতকাল বাতিল হয়েছিল ১৮ জোড়া ট্রেন আজ সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ২৯। হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনে প্রতিদিন এইভাবে বাতিল ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তবে কি ফের অঘোষিত লকডাউনের পথেই কী হাঁটা দিতে চলেছে লোকাল ট্রেনের পরিষেবা? প্রশ্নটি যে খুব অমূলক নয় তা জানা যাচ্ছে রেলেরই বিভিন্ন আধিকারিকদের কথাতে। তাঁরা জানাচ্ছেন আগামী দিনে রেলের চালক, গার্ড, টিকিট পরীক্ষকরা যত বেশি সংখ্যক করে কোভিডে আক্রান্ত হবেন তত বেশি করে লোকাল ট্রেন বাতিল হবে শিয়ালদা ও হাওড়া ডিভিশনে। কারণ যে হারে রেলের গার্ড চালক ও অন্যান্য কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে কেন্দ্র বা রাজ্য লকডাউন ঘোষণা না করলেও কর্মীর অভাবে অঘোষিত লকডাউনের পথে যেতে হতে পারে রেলকে।

তবে রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে লোকাল ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হলেও  এক্সপ্রেস ট্রেন ও দূরপাল্লা ট্রেনের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে। তবে সংক্রমণের হার এরকম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকলে আগামী দিনে এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিষেবা কতদিন স্বাভাবিক রাখা যাবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কারণ যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের গণ্ডি পেরোতে বেশী দেরি নেই। তবে রাজ্যে এখনই লকডাউন হচ্ছে না জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান “এটা কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। সেকেন্ড করোনা। প্রথমটা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই অকারণে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা পরিস্থিতি সামলাচ্ছি। নাইট কার্ফু কোনও সমাধান নয়। রাত্রীকালীন কার্ফু করে কিছু হবে না।

ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে মৃত্যু যত কম হয় ততই ভালো। সবাইকে সচেতন করব, কিন্তু ভয় দেখাবো না। এখনই লকডাউনের কোনও চিন্তা নেই। লকডাউন করলেই সব কমে যাবে? মানুষকে একটু সময় দিতে হবে না? বাইরে থেকে হাজার হাজার লোক আসছে, করোনা সেখানেও ছড়াচ্ছে। লকডাউন করলে তো মানুষের কষ্ট হবে।” তবে রাজ্য লকডাউনের পথে না গেলেও রেলের আশঙ্কা এমন দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়লে আগামী দিনে ৩০ জোড়ার বদলে বাতিল ট্রেনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০ জোড়া। অন্যদিকে রেলের আরও আশঙ্কা করোনার সংক্রমণে লোকাল ট্রেন হয়ে উঠতে পারে সুপার স্প্রেডার। কারণ ভিড়ে ঠাসা লোকাল ট্রেনে মানা সম্ভব না সামাজিক দূরত্ব।

এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “আমরা এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরিষেবা যথাযথ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে যাত্রীরা যাতে যথাযথ করোনা বিধি মেনে চলেন, তার জন্য যাত্রী ও রেলকর্মী উভয়ের উদ্দেশেই ঘোষণা চলছে। এদিন থেকেই মাস্ক ছাড়া ট্রেনযাত্রীদের জরিমানা করাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এখনই লোকাল ট্রেনের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেইরকম কোনও নির্দেশও আসেনি ওপরমহল থেকে। তবে যে হারে রেলকর্মীরা কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন তার জেরে ট্রেন বাতিলের সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত