ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলায় গত রবিবার একটি বড় মাওবাদী দমন অভিযানে ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। গুলি বিনিময়ে নিরাপত্তাবাহিনীর দুই সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে একই এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আট মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছিল।
এছাড়া, এ ঘটনা ছত্তীসগঢ় পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে বিজাপুর অঞ্চলের জঙ্গলে ‘পশ্চিম বস্তার ডিভিশন’-এর সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর, যৌথ বাহিনী সিআরপিএফ, ছত্তীসগঢ় সশস্ত্র পুলিশ এবং কোবরা ইউনিট অভিযান শুরু করে।
মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান
ছত্তীসগঢ়ের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানটি গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়। সাপ্তাহিক অভিযানটি গত শনিবার রাতে আরও তীব্র হয়, যেখানে ১২ জন মাওবাদী নিহত হয়। এই অভিযানটি বিজাপুর এবং এর আশেপাশের জঙ্গলে চলছে এবং বহু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এই অভিযানের পেছনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে চলমান মাওবাদী দমন পরিকল্পনা রয়েছে। অমিত শাহ বারবার বলেছেন যে ২০২৬ সালের মধ্যে মাওবাদীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা হবে। তিনি এমনও ঘোষণা করেছেন যে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ করালে তারা চাকরি এবং অন্যান্য সুবিধা পাবে।


২০২৬ সালের মধ্যে মাওবাদীদের নির্মূল করার লক্ষ্য
ভারত সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে মাওবাদী আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে। গত বছরে ২০৭ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে এবং বহু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা অনুসারে, বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষত ছত্তীসগঢ়, চত্তিসগঢ় এবং মাওবাদীপ্রবণ অঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ ও নতুন প্রচারণা
যৌথ বাহিনী পরিচালিত অভিযানে কিছু মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে গান্ধী তাঁতি ওরফে কমলেশ, মাইনু ওরফে হেমলাল কোর্রাম, রঞ্জিত লেকামি ওরফে অর্জুন এবং তাঁর স্ত্রী কোসি ওরফে কাজল উল্লেখযোগ্য। সেইসঙ্গে, মাওবাদী গেরিলাদের মূল স্রোতে ফিরে আসতে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সরকারের নতুন উদ্যোগে সাফল্য
সরকারের নতুন নীতির আওতায়, মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসন ও চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেক মাওবাদী নিজেদের আত্মসমর্পণ করে সরকারের কাছে ফিরে এসেছে, এবং এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।









