কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক। আর এবার কিন্তু রাজ্যের মানুষ সাক্ষী থাকতে চলেছে চাকরিহারাদের ধর্নার। রায় ঘোষণার পরদিনই দলে দলে চাকরিচ্যুতরা ভিড় জমিয়েছেন ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে। তাঁদের সাফ প্রশ্ন, “সিবিআই-এর মতো সংস্থা যদি এতদিন ধরে তদন্ত করে যোগ্য অযোগ্য বাছতে অপারগ হয় তাহলে কি করে হবে?” আগামীদিনে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: চাকরি বাতিলের রায় আদালতের, বিজেপির ষড়যন্ত্র কোথায়? মালদহে প্রচারে এসে পাল্টা অমিত শাহ
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দেবাশিস বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। আর এই রায়কে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি বিজেপির প্রভাব এখন আদালতেও প্রবেশ করেছে।

নিজেদের কাছে যা যা কাগজ রয়েছে তাই নিয়েই শহীদ মিনারের পাদদেশে হাজির চাকরিহারারা। তাঁদের বক্তব্য, “হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছে সেখানে যোগ্য অযোগ্যরা মিশে রয়েছে। ৫-৬ হাজার অযোগ্যদের জন্য আমাদের কেন চাকরি যাবে? এসএসসি-এর প্যানেলে যে ওএমআর শিট রয়েছে সেখানে আমাদের নম্বর মিলে গিয়েছে। সবাইকে তো টাকা ফেরত দিতে বলা হয়নি। তাহলে এতদিন ধরে কি তদন্ত করল সিবিআই? যোগ্য অযোগ্য সবাই এক হয়ে গেল?”

প্রায় ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হলেও চাকরি যায়নি সোমা দাসে। তিনি মারণরোগে আক্রান্ত। মানবিকতার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত। তা নিয়েও চাকরিহারাদের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁরা বলছেন, “আমাদের বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন, সন্তান রয়েছে। আমাদের এখন কী হবে?”
যোগ্য-অযোগ্য বাছতে ব্যর্থ CBI, তাহলে কিসের এই তদন্ত? ধর্মতলায় উদ্বিগ্ন চাকরিহারাদের প্রশ্ন অনেক!
চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রায় ঘোষণার দিনেই তিনি বলেন, “এই রায় বেআইনি। আমরা এই রায় মানি না। আমি বিচারকদের কিছু বলছি না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে বলতেই পারি। সেটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজেপির কথায় এই রায় হয়েছে। একতরফা রায়। বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আগে একজন বিচারপতি ছিলেন না, বিজেপিতে যোগ দিলেন! এই মামলা তাঁর করা। আমরা আগামীদিনে সুপ্রিম কোর্টে যাব। চাকরিহারারা চিন্তা করবেন না। আমি পাশে আছি।”




