ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (Indian Super League) ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে জয় পেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) ৩-২ ব্যবধানের এই জয় মোটেও স্বস্তির ছিল না। ম্যাচজুড়ে একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংরা। অন্যদিকে, গোল করার পরও রক্ষণ সামলাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে। শেষ পর্যন্ত দ্রাজিচের জোড়া গোল এবং লি এরউইনের গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান। খেলার মাত্র দুই মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ পেয়েও বল বারে মারেন লিস্টন কোলাসো। পরের মিনিটেই ফের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি সবুজ-মেরুন।
এরপরও ছবিটা বদলায়নি। কখনও বল পায়ে অতিরিক্ত কারিকুরি করতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেছেন লিস্টন, কখনও একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন মনবীর সিং। লি এরউইনও সতীর্থদের ভালো অবস্থানে দেখেও নিজে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টা কাজে আসেনি।
প্রথমার্ধে একাধিকবার ওডিশার রক্ষণে ফাটল ধরিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় কোনও সুযোগই কাজে লাগানো যায়নি। যে অর্ধে অনায়াসে দুই থেকে তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত প্যানোস দিম্পেরিসের দল, সেই প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য গোলের খরা কাটে। ৪৭ মিনিটে দুরন্ত শটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন দেবান দ্রাজিচ। চলতি মরশুমে সবুজ-মেরুনের আক্রমণভাগে ধারাবাহিকতার পরিচয় দেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম তিনি। তাঁর গোলে স্বস্তি ফিরেছিল গ্যালারিতে।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় ওডিশা এফসি। ৫২ মিনিটে মহম্মদ ইদের গোলে ম্যাচে ফিরে আসে তারা। আক্রমণে তুলনায় কম সুযোগ তৈরি করেও মোহনবাগানের রক্ষণকে ফাঁকায় পেয়ে যায় ওডিশা।
এরপর ফের গোলের খোঁজে ঝাঁপায় মোহনবাগান। কিন্তু সুযোগ নষ্টের পুরনো সমস্যা তখনও কাটেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবর্তন আনেন কোচ। লিস্টনকে তুলে মাঠে নামানো হয় লাল্লিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে। সেই পরিবর্তন কাজে লাগে ৭৪ মিনিটে। ছাংতের বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে মোহনবাগানকে ফের এগিয়ে দেন দ্রাজিচ।
তবে ম্যাচ তখনও শেষ হয়নি। দ্বিতীয় গোল হজমের পরও লড়াই চালিয়ে যায় ওডিশা। মোহনবাগানের রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফের সমতা ফেরায় তারা। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে স্কোরলাইন ২-২ হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় ঘরের মাঠের দল।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে ত্রাতা হয়ে ওঠেন লি এরউইন। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দুরন্ত ফিনিশে জাল কাঁপান তিনি। তাঁর গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। শেষ কয়েক মিনিট সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে প্যানোসের দল।
এই জয়ের ফলে লিগে টানা চতুর্থ জয় পেল মোহনবাগান। এর আগে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের জয়ের পরই ওডিশার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল তারা। লিগের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে এই তিন পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জয়ের পরও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং রক্ষণে বারবার ভুল—দুই সমস্যাই এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এত সুযোগ নষ্ট করে শেষ মুহূর্তে গোল খেলে অন্য কোনও ম্যাচে তার খেসারত দিতে হতে পারে মোহনবাগানকে। তাই পয়েন্ট টেবিলে সাফল্যের পাশাপাশি ফিনিশিং ও রক্ষণ সামলানোর দিকেও নজর দিতে হবে কোচ প্যানোসকে।



