নজরবন্দি ব্যুরোঃ সোমবার তিন দিনের নদিয়া সফরে উপস্থিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন নদিয়া জেলায় উপস্থিত হয়ে সার্কিট হাউজে গিয়ে সাক্ষাৎ করলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের সঙ্গে। এবার কী তবে মমতার নদিয়া সফরে সঙ্গী হচ্ছেন মুকুল? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন, তবে কী আগের মতো তৃণমূলে গুরুত্ব বাড়ছে মুকুলের।
শুরু হয়েছিল গতমাস থেকে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে বিজয়া সারতে গিয়ে ঘন্টাখানেক বৈঠক করেন মুকুল রায়। তখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে মুকুল রায়কে জল্পনা শুরু হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল এবার সক্রিয় রাজনীতিতে মুকুলকে প্রত্যাবর্তনের সবুজ সংকেত দিতে চলেছেন মমতা। সময় পেরিয়ে সেটাই হল। মুকুলের পাশাপাশি বাড়তে শুরু করল তৃণমূলের নেতাদের ভিড়।

এরপর ভাইফোঁটার দিনেও মমতার বাড়িতে উপস্থিত হলেন মুকুল।ছিলেন তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন কর্মী শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেখানেও দলনেত্রীর তরফে বিশেষ বার্তা পেলেন মুকুল। এখন আবার মমতার নদিয়া সফরের শুরু দিনেই মুখোমুখি দুই পক্ষ। তবে প্রশাসনিক বৈঠকে এবার মমতার পাশে মুকুলকে দেখা যাবে?
গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের পরেই তৃণমূলে কামব্যাক করেছিলেন মুকুল রায়। এরপর থেকেই তাঁর বিধায়ক পদ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল টানাপোড়েন। সেই সমস্যা কাটতেই এখন সক্রিয় হতে শুরু করেছেন মুকুল রায়। সূত্রের খবর, তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশেই একাধিক জেলার দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখা, গুজরাতের প্রসঙ্গ টেনে নাগরিকত্বের হাওয়া তুলে মতুয়া ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিজেপি। এরই মধ্যে মমতার নদিয়া সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার ওপর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নদিয়া জেলার বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, রয়েছে সাংগঠনিক গাফিলতি।
মমতার নদিয়া সফরে সঙ্গী হচ্ছেন মুকুল? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে

বছর শেষে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল দিতে ময়দানে নামতে বাধ্য হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।তিনি দিন ধরে দলের একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তাই একেবারে নীচুতলার জল মাপতে মমতার সঙ্গী হচ্ছেন মুকুল।



