রাস্তায় থুতু ফেললেই জরিমানা! ১ সেপ্টেম্বর থেকে কড়া নিয়ম, ঘোষণা মন্ত্রীর

১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় থুতু ফেলা, যত্রতত্র প্রস্রাব এবং আবর্জনা ফেলার বিরুদ্ধে কড়া জরিমানা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নতুন নিয়ম ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে থুতু ফেলা, যত্রতত্র প্রস্রাব করা কিংবা রাস্তা নোংরা করার বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

কলকাতা পুরসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী জানান, রাস্তাঘাট এবং জনপরিসর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দিষ্ট জরিমানার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রকাশ্যে থুতু ফেললে ১০০ টাকা এবং যত্রতত্র প্রস্রাব বা প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নোংরা করলে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

শুধু সাধারণ নাগরিকই নন, ব্যবসায়ীদের জন্যও থাকছে কড়া বার্তা। দোকানের সামনে আবর্জনা জমিয়ে রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও জরিমানামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জনসাধারণের রাস্তা বা ফুটপাত ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তাই সেগুলি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সকলের।

এর আগে নাগরিক পরিষেবাকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ চালু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি জরিমানার বিধান কার্যকর করার পথে হাঁটছে প্রশাসন।

নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য একটি নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ নম্বরে ফোন করে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের মানুষ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে। ভবিষ্যতে এটিকে ২৪ ঘণ্টার পরিষেবায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, পরিচ্ছন্নতা, নিকাশি, রাস্তার সমস্যা বা অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে প্রশাসন। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মী পাঠানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিন কলকাতার জলজমা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা পাল। টানা বৃষ্টির ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমলেও তা দ্রুত সরাতে পুরসভা ও সেচ দপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে একাধিক পাম্প চালু রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পাম্প যুক্ত করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি শহরের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে ডিজিটাল হোর্ডিং প্রকল্প চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি এলাকায় ডিজিটাল ডিসপ্লে চালু হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘সোলার ডিজিটাল বাস স্ট্যান্ড’ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। সেখানে মোবাইল চার্জিং সুবিধা, যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ কক্ষের মতো আধুনিক পরিষেবা রাখা হবে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন জরিমানা বিধি কার্যকর হলে শহর ও শহরতলির পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় তা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন