নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই বেশ সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে তারকা মিঠুন চক্রবর্তী। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এবার এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিঁধে বড় দাবি করলেন মিঠুন চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রী হলে ছয় মাসের মধ্যে সব বদলে দেওয়ার কথা বললেন তিনি। তবে কি গেরুয়া শিবিরের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে ‘ফাটাকেষ্ট’কে?
আরও পড়ুন: নিয়োগপত্র ছাড়াই নবম-দশমে চাকরি, CBI-র তথ্যে প্রকাশ্যে দুর্নীতির নয়া চ্যাপ্টার


শুক্রবার কলকাতার এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। একাধিক বিষয়ে শাসক দলকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজ্যে প্রশাসন বলে কিছু নেই। সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি ভরে গিয়েছে। হুঙ্কারের সুরে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হলে ৬ মাসের মধ্যে গোটা সিস্টেম বদলে দেব। কোনও প্রজন্মকে শেষ করতে গেলে আগে শিক্ষাকে শেষ করে দেব। এই মুহূর্তে রাজ্যের কোনও ভবিষ্যৎ দেখতে পাই না। রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে গেলে পরিবর্তন করতে হবে। সেটা ঠিক করবে মানুষ। আর যদি রাজনৈতিক দল বলতে বলেন, তাহলে আমি বলব বিজেপি।”

তিনি আরও বলেন, “গোটা রাজ্য দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। সব জায়গায় দুর্নীতি ভরে গিয়েছে। এমন অবস্থাতেই গণআন্দোলন তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। গণ আন্দোলন ছাড়া এ রাজ্যের কিছু হবে না।” এরপরই সুর চড়িয়ে বলেন, “আমায় মুখ্যমন্ত্রী করে দিলে ৬ মাসের মধ্যে গোটা সিস্টেম বদলে দেব। পশ্চিমবঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গ থাকবে না।” বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতিতে শাসক দলের একাধিক নেতা জেলবন্দী। এনিয়ে মিঠুনের দাবি, “যেই ধরা পড়ুক না কেন, গোটা সিস্টেম যে দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে সেটা বদলানো জরুরী।” বিজেপির তারকা নেতার মুখে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা শুনে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগেও একুশের নির্বাচনী প্রচারের সময় নিজেকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

মিঠুন চক্রবর্তীর এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিনেতা হিসেবে মিঠুন দা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। কিন্তু তাঁর মত বিশ্বাসঘাতক নেই। একসময় যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোন সম্বোধন করতেন এখন তাঁর মুখেই উল্টো কথা।” তৃণমূল নেতার কটাক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তী নিজেকে তুলে ধরলে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীকে মাথা চাপড়াতে হবে।”


‘মুখ্যমন্ত্রী হলে ৬ মাসে বাংলাকে বদলে দেব’, মুখ্যমন্ত্রীর দাবিদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন ‘ফাটাকেষ্ট’?








