পুলিশের মদতেই সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়েছে ধর্ষক-খুনি-তোলাবাজ? কেন? পড়ুন…

চলমান পন্যবাহী গাড়ি থামিয়ে একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে ড্রাইভারের জানালায় হাত বাড়িয়ে টাকা কালেকশনের দায়িত্ব এখন সিভিক ভলেন্টিয়ারের উপরেই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অর্ক সানা (সম্পাদক, নজরবন্দি.ইন): শিরোনাম দেখে অনেকেই ভাবছেন, এমন কথা লিখে দিলেন? কিন্তু যারা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করেন তাঁরা কখনও না কখনও পুলিশ এবং সিভিক ভলেন্টিয়ার দ্বারা হয়রানির শিকার হননি এমনটা খুঁজে পাওয়া বিরল। আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষন ও খুনের ঘটনায় ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার ২০১৯ সালে সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজে যোগ দেন। সবাই জানেন সিভিক ভলেন্টিয়ার নিযুক্ত করে লাখ খানেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু থমকে গয়েছিল পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া। যে কারনেই সম্ভবত সাধারণ সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়েও বেশ প্রভাবশালী ছিলেন ধৃত।

তার প্রভাবশালী হওয়ার কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসাবে প্রথমে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা দল (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ বা ডিএমজি)-এ যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে অল্প কয়েক দিন কাজ করার পরেই তাঁকে পাঠানো হয় পুলিশের ওয়েলফেয়ারে। কিন্তু পুলিশের ওয়েলফেয়ারে সিভিক ভলেন্টিয়ার কেন? মূলত পুলিশ কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি দেখে এই পুলিশ ওয়েলফেয়ার। এক জন সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়েও অভিযুক্ত কী ভাবে পুলিশের ওয়েলফেয়ারে কাজ করল সেই প্রশ্ন যেন চাপা না পড়ে সেটাও দেখা উচিত।

যাই হোক প্রতিবেদন শীর্ষকে আসা যাক। ‘রাস্তায় এখন গাড়ি থামিয়ে তোলা তোলে সিভিক, বেকায়দায় পড়লে বাঁচাতে আসে পুলিশ’… ঘটনাটি দেখেননি এমন গাড়ি চালক বা সওয়ারি সম্ভবত নেই এই বাংলায়। রাজ্যের কমবেশি সব জায়গাতেই এই দৃশ্য দেখা যায়। সেটা কোনা এক্সপ্রেস – সাঁতরাগাছির মাঝামাজি হোক অথবা টালিগঞ্জ থেকে রবীন্দ্রসদন যাওয়ার রাস্তাই হোক। এই পুলিশ মার্কা সিভিক ভলেন্টিয়ার সব যায়গাতেই বর্তমান পুলিশের কৃপায়।

চলমান পন্যবাহী গাড়ি থামিয়ে একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে ড্রাইভারের জানালায় হাত বাড়িয়ে টাকা কালেকশনের দায়িত্ব এখন সিভিক ভলেন্টিয়ারের উপরেই। অনেক সিভিক ভলেন্টিয়ার ‘ভুলভাল’ গাড়ি দাঁড় করিয়ে চড় থাপ্পড় খাননি এমনটাও নয় আবার। তবে ‘পুলিশ’ কিনা… ‘৫০-১০০ চায় যখন দিয়ে দিই ফালতু ঝামেলা করে কি লাভ!’ এই বার্তা মাথায় নিয়ে অনেকেই দিয়ে দেন টাকা, অনেকে আবার চ্যালেঞ্জ করেন।

আমার সঙ্গে ঘটা অনেকগুলি ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনার উল্লেখ করছি। কোনা এক্সপ্রেস থেকে সাঁতরাগাছির দিকে আসছি। আচমকাই হাত বাড়াল সিভিক ভলেন্টিয়ারের দল। কিছুটা দূরেই বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দুজন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী। ড্রাইভিং সিটে আমি নিজেই বসে রয়েছি। হাত যখন দেখাল তখন দাঁড়াই, এই ভেবে দাঁড়ালাম। সিভিক বাবুরা এলেন, বললেন কাগজপত্র দেখান। আমি বললান গাড়ির নাম্বার দেখা যাচ্ছে তো, আপনাদের কাছে মেশিন আছে চেক করে নিন। তখন এক সিভিক ভলেন্টিয়ার এগিয়ে এসে গাড়ির দরজা ধরে টান মারল। গাড়ি লক ছিল। আমি নিজেই লক খুলে নেমে পড়লাম। বললাম, কি দাবি ভাই? আস্তে করে কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে সিভিক ভলেন্টিয়ার বাবাজি বললেন, ১০০ টা দিয়ে চলে যান। ফালতু ঝামেলা করছেন কেন? বেশি ঝামেলা করলে ৫০০ হয়ে যাবে!

আমি বললাম ১০০ বা ৫০০ টাকা কেন দেব? অন্যায় টা কি করেছি? এইবার রেগে গেলেন সিভিক স্যার। অন্য দুজন কে নির্দেশ দিলেন, এই ওর গাড়ির চাবিটা নে আর এনাকে ধর, বড্ড বেশি কথা বলে। এর পরেও টাকা দিচ্ছিনা বা ভয় পাচ্ছিনা দেখে সিভিক বাবাজি সার্জেন্ট কে ডাকার হুমকি দিলেন। কিন্তু কেন তিনি আমাকে পাকড়াও করে ১০০ বা ৫০০ টাকা চাইছেন সেটা আর বললেন না। আমি অনড় রইলাম, টাকা দেবনা। এবার এলেন সাদা পোশাকের পুলিশ। বুঝলাম ইনি কনস্টেবল। এসেই হুঙ্কার, কি হয়েছে ঝামেলা করছেন কেন? এর পর আমি কিছু বলার আগেই বলে দিলেন ২৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে আমার! অবাক হয়ে গেলাম তোলাবাজির পদ্ধতি দেখে। ততক্ষনে আমার পাশ দিয়ে যাওয়া কমপক্ষে ১০ টি গাড়ি দাঁড় করিয়ে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে বেশ কিছু টাকা পকেটস্থ করে ফেলেছে দুই সিভিক। এবার এলেন সার্জেন্ট, কাঁধে তাঁর পাঁচতারা রয়েছে ২ টি।

এসে একই ভাবে বললেন, ঝামেলা করছেন কেন? বলে হাতের মেসিনে গাড়ির নাম্বার টিপলেন। দেখলেন সবই ঠিক আছে। এরপরেই তাঁর চোখ পড়ল গাড়ির কাঁচে, লাল অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘PRESS’… ব্যাস তৎক্ষণাৎ বললেন ওরা বুঝতে পারেনি আপনি যান। আমি বললাম, মানেটা কি! এতক্ষন সময় খেলেন আমার, এখন PRESS স্টিকার দেখেই বলছেন যান! এর মধ্যেই সার্জেন্টের হাতের ওয়াকিটকি তে খবর এল, এসপি আসছেন। রাস্তা যেন ক্লিয়ার থাকে… বাকি ঘটনা আর বলছি না। কিন্তু রাস্তা ঘাটে পুলিশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সিভিক ভলেন্টিয়াদের তোলাবাজি বন্ধ না হলে আর কিছুদিন পরেই… থাক ইতি গজ

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত