২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য শনিবার ভারতের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড প্রকাশ্যে এসেছে। দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে দু’টি বিষয় নিয়ে—এক, শুবমান গিল-এর বাদ পড়া, এবং দুই, ভাইস ক্যাপ্টেন হিসেবে অক্ষর প্যাটেল-কে বেছে নেওয়া।
শুবমান গিলকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাঁর জায়গা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছিল—তাহলে কে হবেন সূর্যকুমার যাদবের ডেপুটি? স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনায় আসে হার্দিক পান্ডিয়া ও জশপ্রীত বুমরা-র নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব গেল অক্ষরের হাতেই।


আগরকরের ব্যাখ্যা
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। তাঁর কথায়,
“প্রাথমিক ভাবে শুবমানকেই ভাইস ক্যাপ্টেন হিসেবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ও যেহেতু দলে নেই, তাই অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিতে হত। এর আগেও যখন শুবমান শুধু টেস্ট খেলছিল এবং টি-টোয়েন্টিতে ছিল না, তখন দলের ভাইস ক্যাপ্টেন ছিল অক্ষর। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে।”
আগরকর উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ডেপুটি ছিলেন অক্ষরই।
নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই বড় ফ্যাক্টর
শুধু জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া ক্রিকেটেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে অক্ষরের। গত মরশুমে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। দলে কেএল রাহুল থাকলেও টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছিল। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে গুজরাট দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।


টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে অক্ষরের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য—১৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১০টিতে জয় পেয়েছেন তিনি। নির্বাচকদের মতে, এই অভিজ্ঞতাই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ।

হার্দিক ও বুমরার ক্ষেত্রে কেন নয়?
নির্বাচক সূত্রে জানানো হয়েছে, হার্দিক পান্ডিয়া সদ্য চোট কাটিয়ে ফিরেছেন। তাই তাঁকে অতিরিক্ত নেতৃত্বের চাপ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জশপ্রীত বুমরার ক্ষেত্রে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট একটি বড় বিষয়। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তাঁর ফিটনেস ধরে রাখাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের অগ্রাধিকার।
এই সব দিক বিচার করেই ৩১ বছর বয়সি অক্ষর প্যাটেলকে সূর্যকুমার যাদবের সহ-অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে BCCI।
এই সিদ্ধান্তে ক্রিকেটমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। একাংশের মতে, হার্দিক বা বুমরার মতো তারকাদের বদলে অক্ষরকে ভাইস ক্যাপ্টেন করা সাহসী সিদ্ধান্ত। আবার অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে অক্ষরই ছিলেন সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ। বিশ্বকাপে এই নেতৃত্ব কাঠামো কতটা কার্যকর হয়, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।







