ওটিটিতে ‘অশ্লীল’ কনটেন্টের বাড়বাড়ন্ত কেন? গবেষণায় সামনে এল ৫টি চমকপ্রদ কারণ

ইন্টারনেটে ‘অ্যাডাল্ট’ কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত। গবেষণায় উঠে এল কেন তরুণদের মধ্যে এই ধরনের কনটেন্ট দেখার প্রবণতা বাড়ছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ভরেছে নানা ধরনের কনটেন্টে। ওয়েব সিরিজ, শর্ট ভিডিও, রিলস বা ভ্লগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে দর্শকের সংখ্যা। তবে এই কনটেন্টের ভিড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনেক নির্মাতাই যৌনতা বা ‘অ্যাডাল্ট’ উপাদানকে হাতিয়ার করছেন। ফলে অল্প সময়েই এমন কনটেন্টে ভিউয়ের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

বিশেষ করে ওয়েব সিরিজের ক্ষেত্রে খুনোখুনি থেকে অবাধ যৌনতার দৃশ্য—সবই সহজেই দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে Ministry of Information and Broadcasting। কেন্দ্রীয় সরকার ১৮টি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ১৯টি ওয়েবসাইট এবং ১০টি অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করেছে বলে জানা গিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কেন ক্রমশ বাড়ছে এই ধরনের ‘অশ্লীল’ কনটেন্টের প্রতি আকর্ষণ? আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি সমীক্ষায় অন্তত ৩০০ জন কলেজ পড়ুয়ার উপর গবেষণা চালিয়ে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

১. কৌতূহল ও উত্তেজনার আকর্ষণ

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকেই কৌতূহল বা যৌন উত্তেজনার টানেই এই ধরনের কনটেন্ট দেখতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং নিয়মিত দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।

২. ‘শেখার মাধ্যম’ হিসেবে ব্যবহার

সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই ধরনের ওয়েব সিরিজ বা ভিডিওর বড় অংশের দর্শক পুরুষ। অনেকেই মনে করেন, এসব দেখে যৌনতা সম্পর্কে নতুন কিছু শেখা যায় এবং বাস্তব জীবনে সম্পর্ক আরও রোমাঞ্চকর করা সম্ভব।

৩. ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা

কিছু মানুষ একেবারেই ব্যক্তিগত যৌন আকাঙ্ক্ষা থেকে এই ধরনের কনটেন্ট দেখেন। গবেষকদের মতে, অনেকের কাছে এটি একধরনের ব্যক্তিগত তৃপ্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

৪. বন্ধুবান্ধবের প্রভাব

কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে বন্ধুদের প্রভাবও বড় কারণ। বন্ধুদের আলোচনায় বা উৎসাহে অনেকেই প্রথমে এই ধরনের কনটেন্ট দেখতে শুরু করেন।

৫. মানসিক চাপ ও একাকীত্ব

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ এবং সামাজিক দূরত্বের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে একাকী বোধ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ ‘অ্যাডাল্ট’ কনটেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

অতিরিক্ত দেখার বিপদ কী?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত ‘অশ্লীল’ কনটেন্ট দেখলে বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা অনেক সময় ঝাপসা হয়ে যায়। এর ফলে বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাই গবেষকদের মতে, বিনোদনের জন্য কনটেন্ট দেখা স্বাভাবিক হলেও এই ধরনের কনটেন্টের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে মানসিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত