নিয়ন্ত্রণ কি শুধু বাসেই? অটো ভাড়ার দৌরাত্ব রুখবে কে? চুপ সবাই

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ কি শুধু বাসেই? অটো ভাড়ার দৌরাত্ব রুখবে কে? দেশজুড়ে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে আমাদের রাজ্যেও করোনায় প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই করোনাকে সামলাতে গিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। পুরোপুরি লকডাউন না হলেও মানুষের চলাফেরা, পরিবহন সবকিছুর ওপর এসেছে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ। এই করোনার প্রভাবে কাজ হারিয়েছেন প্রচুর মানুষ।

আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রামের ভোটে গরমিল? রইল বেলাগাম ভুলে ভরা ১৮ টি বুথের পূর্ণাঙ্গ তথ্য!

দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের কথা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজ হারিয়ে তারা প্রায় সর্বস্বান্ত। আর এর মধ্যেই প্রায় প্রতিদিনই বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল নতুন করে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে বেশ খানিকটা। ফলে সাধারণ মানুষের সবদিক থেকে উঠেছে নাভিশ্বাস। রাজ্যে প্রায় দুমাস গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও আজ ১লা জুলাই থেকে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস-মিনিবাস চালু করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

কিন্তু বেঁকে বসেছে বেসরকারি বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন। তাদের বক্তব্য তেলের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে আর পুরনো ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব নয়। তাও আবার ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে। নিয়ম হলো গন পরিবহন ব্যবস্থায় ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আর বেশ কয়েক বছর ধরে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সরকার এবং বাস মালিকদের মধ্যে টানাপড়েন চলছেই। আলোচনা হয়েছে বেশ কয়েকবার কিন্তু সেই আলোচনা থেকে সেভাবে কোন নির্যাস বেরিয়ে আসেনি। ফলে ভাড়া বৃদ্ধি সেভাবে হয়নি। অপরদিকে শহর এবং শহরতলীতে যাতায়াতের জন্য গন পরিবহন ব্যবস্থার আরো দুটি অঙ্গ অটো এবং ট্যাক্সি।

অথচ এই অটো এবং ট্যাক্সির ক্ষেত্রে ভাড়া নির্ধারণ করা নিয়ে সরকারের সেভাবে কোনো হাত নেই। ফলে এই লকডাউনে তিলোত্তমার বিভিন্ন রুটে ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা। আর তা বাড়ানো হয়েছে কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রায় সব রুটে ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছে নিজেদের মতো করে বলে অভিযোগ। যাত্রীদের আরও অভিযোগ প্রথমদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়িতে বাসের ভাড়া না বাড়লেও অবলীলায় বেড়ে চলেছে অটোর ভাড়া।

নিয়ন্ত্রণ কি শুধু বাসেই? অটো ভাড়ার দৌরাত্ব রুখবে কে? ফলে রাস্তায় বাস মিনিবাস না থাকায় বাধ্য হয়ে যাত্রীরা ব্যবহার করছেন অটো।আর বাস ভাড়া না বাড়লেও কোন প্রকার লাভ হয়নি যাত্রীদের। উত্তর কলকাতার অটো রুট উল্টোডাঙ্গা, শোভাবাজার, গিরিশ পার্ক, কাঁকুড়গাছি , কলেজস্ট্রিট, শিয়ালদা, বেলেঘাটা এরকম একাধিক রুটে ভাড়া বেড়েছে আকাশছোঁয়া। অপরদিকে দক্ষিণ কলকাতায় টালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ, যাদবপুর, কসবা সহ একাধিক রুটে ভাড়া বেড়েছে প্রচুর। এইভাবে ইচ্ছেমতো ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন করলেই অটো চালকরা নাকি বলছেন ‘লকডাউন এর ক্ষতি বুঝে যাত্রীরাই তো নিজে থেকে একটু ভাড়া বেশি দেওয়ার কথা’।

আর প্রশাসনের চোখের সামনেই দিনে রাতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে লকডাউন এর অছিলায় নেওয়া হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া। আর এই বেশি ভাড়া নিয়ে ভুরিভুরি অভিযোগের পরেও অটো চালক ইউনিয়ন বা ট্যাক্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনভাবেই কোনরকম ব্যবস্থা নেওা হয়নি। দিনের দিকে ট্যাক্সি ভাড়া মোটামুটি ঠিক থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই আকাশছোঁয়া ভাড়া চাইছে ট্যাক্সি চালকরা।

কিন্তু এইরকম অটো বা ট্যাক্সি ভাড়া নিয়ে কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ থাকবে না প্রশাসনের? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক প্রশাসনিক কর্তা বলছেন শহরে অটোর তেমন কোন কেন্দ্রীয় সংগঠন নেই সবটাই হয় শাসকদলের মদদপুষ্ট রুটের দাদাদের নিয়ন্ত্রণে। রাজ্য পরিবহণ দফতরও অটো গুলির উপর বিশেষ কোনো নিয়ন্ত্রণ দেখাতে পারে না।

অটোর এই বেলাগাম ভাড়া বাড়ানো নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের দিক থেকেও সেইভাবে তাই কোন সদুত্তর মেলেনি। ফলে এই লকডাউনে কাজ হারা প্রচুর মানুষের অসহায় অবস্থা কে কাজে লাগিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি এবং ভাড়া নেওয়া দুটোই চলছে সমানতালে। এর থেকে মুক্তি কি সম্ভব? কোন উত্তর নেই উপরওয়ালাদের মুখ থেকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত