যুবসাথী প্রকল্পের টাকা কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে—এই প্রশ্ন এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করার পর থেকেই অনেকেই অনুদানের অপেক্ষায় থাকলেও এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই ও ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কারণে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো হচ্ছে। ফলে কিছু আবেদনকারী আগে টাকা পাচ্ছেন, বাকিদের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগছে।
রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন এসেছে যুবসাথী প্রকল্পে। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করা স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, যারা সরাসরি অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য আগেই পোর্টালে সংরক্ষিত ছিল। ফলে তাদের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে এবং তারাই প্রথম পর্যায়ে অনুদানের টাকা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে যারা বিভিন্ন সরকারি ক্যাম্পে গিয়ে অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাদের আবেদনপত্রগুলি আগে ডিজিটাল ডাটাবেসে আপলোড করতে হচ্ছে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক কাগজের ফর্ম কম্পিউটারে তোলা হচ্ছে। এই কারণে অফলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর গতিতে এগোচ্ছে।
তবে প্রশাসনের দাবি, যাদের তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হচ্ছে তাদের পর্যায়ক্রমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে।


যাচাইকরণের সময় কিছু ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হচ্ছে। এর পেছনে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।
প্রথমত, যারা ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না।

দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক। বয়স নির্ধারিত সীমার বাইরে হলে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।
তৃতীয়ত, পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সমস্যাও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার কার্ডের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে বা ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে আবেদন আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে।
এছাড়া অনলাইনে অনেক আবেদনকারী ভোটার কার্ডের একদিকের ছবি আপলোড করেছেন, ফলে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। অফলাইন আবেদনেও যাদের ভোটার কার্ড নেই, তাদের আবেদন বর্তমানে সমস্যায় পড়ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি আবেদনকারীর সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র সঠিক থাকে, তাহলে যাচাইকরণ সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পৌঁছে যাবে।
তাই এই মুহূর্তে আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ হলেই ধাপে ধাপে সকল যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।








