যুবসাথী প্রকল্পের টাকা অবশেষে পৌঁছতে শুরু করল আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ধর্নামঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই যুবসাথীর প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে লক্ষাধিক যুবক-যুবতীর মুখে হাসি ফুটেছে।
শনিবার ধর্মতলার অবস্থানমঞ্চে বক্তাদের বক্তব্য চলাকালীনই অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী সকালে ঘোষণা করেছিলেন আর সেই অনুযায়ী সন্ধ্যা থেকেই টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “দিদি সকালে ঘোষণা করেছিলেন, আর সন্ধ্যায় প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হল।”
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, মূলত ১ এপ্রিল থেকে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সেই তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। রবিবার নারী দিবসের আগে শনিবারই ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি জানান, “১ এপ্রিলের বদলে আজ থেকেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই অন্য কোনও সরকারি বৃত্তি পান, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় ধরা হচ্ছে না।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবসাথী প্রকল্পের অধীনে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন, যা টানা পাঁচ বছর পর্যন্ত দেওয়া হবে। মূলত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর হওয়ার পথে সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ।
আবেদনের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলা থেকে মোট ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭০টি আবেদন জমা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে মুর্শিদাবাদ, সেখান থেকে ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩৩টি আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের বিধানসভার অন্তর্বর্তী বাজেটে প্রথমবার ‘যুবসাথী’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তখন বলা হয়েছিল, ১৫ অগস্ট থেকে প্রকল্প চালু হবে। পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নতুন করে ঘোষণা করেন, ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে।
সেই লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে ব্লকভিত্তিক শিবির এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রির দিন থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শিবির করে ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
এবার ঘোষণার আগেই টাকা পৌঁছতে শুরু করায়, যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।



