নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুই দেশেই মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী। দুই দেশের যুদ্ধের পর হয়েছিল লিখিত হয়েছিল আত্মসমর্পন দলিল। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কম্যান্ডিং ইন চিফ জগজিৎ সিংয়ের উপস্থিতিতে সাক্ষরিত হয়েছিল তা। সাক্ষর করেছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের প্রধান জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজীও। আত্মসমর্পনের দলিলে কী লেখা ছিল?
আরও পড়ুনঃ বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান শেখ হাসিনার
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল। ঠিক বিলেন ৪ টে ৫৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সাক্ষরিত হয় সেই দলিল। এর আগে সকালে নিয়াজীর সঙ্গে আলোচনা করতে উপস্থিত হন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব। জ্যাকবের সঙ্গে বৈঠকে দলিল নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছিলেন নিয়াজী। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনও কর্ণপাত করা হয়নি। সেই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের তরফে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিমান বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার কম্যান্ডর এ কে খন্দকার।

কী লেখা ছিল সেই দলিলে? সেখানে স্পষ্ট করে লেখা ছিল, পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশের যৌথ বাহিনীর কম্যান্ডিং ইন চিফ জগজিৎ সিংয়ের কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সশস্ত্র কম্যান্ডের সকল বাহিনী আত্মসমর্পন করল। একই সঙ্গে আত্মসমর্পন করল পাকিস্তানের সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সমস্ত সামরিক এবং আধা সামরিক সশস্ত্র বাহিনী। এই সমস্ত বাহিনীর সমস্ত আধিকারিকরা জগজিৎ সিং আরোরার নেতৃত্বাধীন নিয়মিত সমস্ত নিকটস্থ অফিসারদের কাছে অস্ত্র সমর্পন এবং আত্মসমর্পন করবে।
দলিল সাক্ষরের পর থেকেই পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ড লেফটেন্যান্ট জেলারেল জগজিৎ সিংয়ের নেতৃত্বে কাজ করবে। নির্দেশ না মানলে আত্মসমর্পণের শর্ত লঙ্ঘন হবে। সেক্ষেত্রে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পনের শর্তাবলী নিয়ে কোনও সংশয় দেখা দিলে সেক্ষেত্রে জগজিৎ সিং আরোরাই একমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী, দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা

লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করছেন। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানী সামরিক ও আধা-সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার সুনিশ্চিত করছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে।



