বিজেপির ভরাডুবির কারণ কী? বিশ্বভারতীর সেমিনারের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক-নিন্দা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  বিজেপির ভরাডুবির কারণ কী? তা নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা চলছেই রাজ্য এমনকি দেশ জুড়ে। ঠিক কোন কারণে এতো প্রচার সত্বেও বাংলায় এভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির। আলোচনা-পর্যালোচনা, হারের পোস্টমর্টেম গত কয়েকদিনে সব করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি কয়েকটি আসনে ২০০০ এর কম ভোটে হারার কারণে পুণরায় গণনার দাবী নিয়ে আদালতে যেতে চাইছেন। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে ওয়াকিবলহাল মহল সকলেই মনে করছে বাংলায় নিজেদের হার মেনে নিতে পারছেন না বিজেপির নেতারা।

আরও পড়ুনঃ শহর কলকাতায় চলছে জাল স্যানিটাইজারের রমরমা বাজার, পুলিশের হাতে আটক ১।

২১ এর বাংলা বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিলো। সেই চ্যালেঞ্জ জিততে সপ্তাহে সপ্তাহে কেন্দ্র থেকে নেতামন্ত্রী এসেছেন। গত কয়েকমাসে অমিত শাহ থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যাক টু ব্যাক সভা করেছেন বাংলায়। কখনো লোক হয়েছে, কখনো লোক না হওয়ার কারণে বাত্তিল হয়েছে জনসভা। কিন্তু বিজেপির নেতারা বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবার ২০০ পেরিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। সঙ্গে প্রতিপক্ষ তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী ভোটের আগেই গিয়েছিলেন পদ্ম বনে। সব মিলিয়ে ভোটে বাংলা জয় শিয়র শট ছিলো পদ্ম প্রার্থীদের কাছে।

কিন্তু লোক এলেও ভোট আসেনি, সভা মিটিং মিছিলের জনগন দেখে ভোটের জল মাপলেও কার্যত তা বুমের‍্যাং হয়ে গিয়েছে। বাংলায় ২০০ পেরিয়ে গিয়েছে মমতার সরকার, গড়ে ফেলেছে নিজেদের তৃতীয় বারের মন্ত্রীসভা, আর বিজেপি সেঞ্চুরিও করতে পারেনি, আটকেছে ৮০ এর নীচে। তবে বিজেপির দলের ভেতরের কাঁটাছেড়ার মাঝেই এবার, ‘বাংলায় বিজেপি কেনো ভোটে জেতেনি’ এই টপিকে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে।

আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন খোদ উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছিল আগামী ১৮ই মে বিকেল ৪টেয় হবে এই আলোচনা সভা। প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি আয়োগের যুগ্ম পরামর্শদাতা অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার। আর তার পরেই বিশ্বভারতীর এই উদ্যোগে হতবাক, বিস্মিত সকলে। সকলের মত এর আগেও এবং সারাবছর ধরেই বিশ্বভারতীতে আলোচনা সভা হয়েই থাকে। কিন্তু এভাবে কখনো রাজনৈতিক দলের হার জিতের কাঁটাছেড়া করার জন্য সেমিনার ডাকেনা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অধ্যাপক, পড়ুয়া, আশ্রমিক সহ গোটা বোল্পুর বাসী।  এই ধরনের দলীয় আলোচনা রবীন্দ্র-ঐতিহ্য বহনকারী বিশ্বভারতীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন তাঁরা। তীব্র নিন্দা করেছেন  উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর এই সিদ্ধান্তের। এমনিতেই দায়িত্বের শুরু থেকেই একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিদ্যুৎ বাবু। এবার আরও একধাপ সেই বিতর্ক বাড়লো। তবে তাঁকে নিয়ে বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের একাংশের মতে তাঁরা অবাক নন, প্রথম থেকেই উপাচার্য যা কিছু করেন, রবীন্দ্রনাথ তার ঐতিহ্য সব নিয়েই, তিনি এরকম করলে তীব্র নিন্দা বেরিয়ে আসে, তবে অবাক নন তারা। তবে তাঁদের বক্তব্য উপাচার্য কেন্দ্র দ্বারা মনোনীত হলেই তিনি যদি ভাবেন বিশ্ববিদ্যালয় বিজেপি কার্যালয়, তাহলে তা দুঃখের।

ঠাকুর পরিবারের সদস্য, আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর এই আলোচনা সভার নিন্দা এবং বিরোধীতা করে বাংলার প্রথম সারির এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ‘‘বিশ্বভারতীতে রাজনীতিটা একেবারেই ছিল না। রবীন্দ্রনাথ রাজনীতি পছন্দ করতেন না। কিন্তু সে সব নিয়ম আর কোথায় এখন। অনেক দিন ধরেই বিশ্বভারতীকে গ্রাস করছে রাজনীতি। এখন তো একেবারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যিনি কর্মকর্তা তিনি চাইলে বন্ধ করা যাবে কী করে? এখানে রাজনীতি হওয়ার কথাই নয়। আগে কখনও হতো না। কিন্তু কর্মকর্তা নিজে বয়ে আনলে কে ঠেকাবে? খুব অন্যায় হচ্ছে, কিন্তু কী করা যাবে!’’

বিশ্বভারতীতে বিজেপির হারের পর্যালোচনা কেন হবে? তা হবে দিল্লিতে, বলে প্রশ্নো ওঠে বোলপুরের আনাছে কানাচে। প্রশ্ন তুলেছেন খোদ অনুব্রত মণ্ডলও। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে তীব্র রোষের মুখে পড়ে ওয়েবসাইট থেকে ডিলিট করা হয়েছে সেমিনারের বিজ্ঞপ্তি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর