বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে নতুন এক নাম ঘুরছে জোর চর্চায়—‘বোর্ড অব পিস’। শান্তি রক্ষার প্রতিশ্রুতি, অথচ সদস্যপদের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ, আর সর্বেসর্বা এককভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প—এই তিনটি উপাদানই যথেষ্ট কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি করতে। ঠিক কী এই ‘বোর্ড অব পিস’? এটি কি রাষ্ট্রপুঞ্জের বিকল্প শক্তিকেন্দ্র, নাকি আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্ব রাজনীতির নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কূটনৈতিক মহলে।
‘বোর্ড অব পিস’ ঠিক কী? কী ভাবে কাজ করবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই নতুন গোষ্ঠী
‘বোর্ড অব পিস’ (Board of Peace) হল আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত একটি নতুন আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যার ঘোষিত লক্ষ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের দ্রুত সমাধান। তবে এটি রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো কোনও প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা নয়; বরং আমেরিকার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ।


‘বোর্ড অব পিস’ কী?
এই বোর্ড মূলত একটি আমন্ত্রণভিত্তিক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী। যেসব দেশের সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ এবং যাদের “শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি”-র প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে, তাদেরই এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রথমে তিন বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ মিলবে। পরে চাইলে ১০০ কোটি ডলার অনুদানের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়া যাবে—যা এই বোর্ডকে অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার থেকে একেবারেই আলাদা করে তুলেছে।
কী ভাবে কাজ করবে এই বোর্ড?
‘বোর্ড অব পিস’-এর কাজের কাঠামো মূলত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—
১. সংঘাত চিহ্নিতকরণ
বিশ্বের যে সব অঞ্চলে যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘর্ষ বা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুটা হবে গাজ়া সংকট দিয়ে।


২. মধ্যস্থতা ও চাপ সৃষ্টি
বোর্ডে থাকা দেশগুলির কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি, আলোচনা বা সমঝোতার রূপরেখা তৈরি করবে এই গোষ্ঠী।
৩. পুনর্গঠন ও নজরদারি
কোনও অঞ্চলে সংঘাত কমলে বা থামলে, সেখানে শান্তি বজায় রাখতে আর্থিক সাহায্য, পুনর্গঠন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক নজরদারির ভূমিকা নেবে বোর্ড।
কার হাতে থাকবে ক্ষমতা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত বিষয় হল—এই বোর্ডের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে ট্রাম্পের হাতেই। বোর্ডের সিদ্ধান্ত, অগ্রাধিকার এবং কৌশল নির্ধারণে তাঁর প্রভাবই হবে শেষ কথা। রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার ক্ষেত্রে সদস্যপদের জন্য কোনও অর্থনৈতিক শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে সংঘাত কেন?
বিশ্বে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব এত দিন মূলত United Nations-এর হাতেই ছিল।
তাই প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্রপুঞ্জ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ‘বোর্ড অব পিস’ কেন?
সমালোচকদের মতে,
-
এটি রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে
-
আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগে আমেরিকার একক প্রভাব বাড়াতে পারে
-
“অর্থের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদ” ধারণা বৈষম্য তৈরি করতে পারে
সমর্থকদের যুক্তি আবার উল্টো—রাষ্ট্রপুঞ্জ অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে ধীর, সেখানে ‘বোর্ড অব পিস’ দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে।
ভারতের জন্য এর তাৎপর্য কী?
ভারত যদি এই বোর্ডে যোগ দেয়, তবে
-
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বাড়তে পারে
-
কিন্তু স্থায়ী সদস্যপদের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন উঠবে
-
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের অবস্থানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে
এই কারণেই ‘বোর্ড অব পিস’ শুধু একটি শান্তি উদ্যোগ নয়, বরং ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন পরীক্ষাগার বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।







