নজরবন্দি ব্যুরো: ‘তোমার পরে ঠেকাই মাথা’, রাজ্যে চলছে অভাবনীয় দলবদল। যেভাবে পাল্লা দিয়ে তৃণমূল থেকে নেতারা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন এখন সেই পাল্লা দিয়েই টালিগঞ্জ থেকে অভিনেতা অভিনেত্রীরা তৃণমূলে আসছেন অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হওয়ার দৌড় নিয়ে। গত কাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতির হাতেখড়ি নিলেন টলিউডের একঝাঁক তারকা। সায়নী থেকে পরিচালক রাজ্য চক্রবর্তী, জুন মালিয়া থেকে সুদেষ্ণা দত্ত সহ আরো অনেকেই ছিলেন সেই দলে।
আর পড়ুনঃ সুখবর রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য, একাধিক পদে অবসরের বয়সসীমা বাড়ল।
এই যোগদান পর্বের পর থেকেই শুরু হয়েছে বাকি সহকর্মীদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া। রাজ চক্রবর্তী তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই গুঞ্জন উঠেছিল তাহলে কি এবার এতদিনের রাজ্য আর রুদ্রের সম্পর্কের মাঝে আসতে চলেছে রাজনৈতিক ফাটল। সেসবের মধ্যেই বিতর্কের ওপরে উঠে এসেছে সায়নী সরকারের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গ। ভোটের ঠিক প্রাক্কালে সায়নীর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে অনেকেই যেমন আনন্দ প্রকাশ করছেন, বলছেন সায়নীর মত মেয়েরা দলে আসলে পরেই ভবিষৎ প্রজন্ম উঠে আসবে তৃণমূলে, তার উল্টো প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
আর সবকিছু ছাপিয়ে গেছে অভিনেত্রী সায়নীর নেত্রী হওয়ার হাতেখড়ির পরেই শ্রীলেখা মিত্রর মন্তব্যে। “বামপন্থী” সায়নীর এভাবে তৃনমূলে যোগ দেওয়া দেখে শুধু হতভম্ব নয় রীতিমত ব্যথিত তিনি। অপর দিকে অভিনেত্রীর তৃণমূলে যোগদান করতেই গতকাল থেকেই উত্তাল নেটমাধ্যম। অভিনেত্রীর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তাঁর বন্ধুদের একাংশ। তাঁরা কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রাজনৈতিক উচ্চাশা থাকতেই পারে।
তাই বলে তৃণমূলে’? অনেকে আবার বিস্ময়-সহ জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘সায়নী তুইও’! আর কাল তৃণমূলে যোগ দিয়ে সায়নী জানালেন কেন তিনি তৃণমূলে যোগদান করেছেন। আজ সায়নী ঘোষ ফেসবুক পোস্ট করে মা-মাটি-মানুষকে প্রণাম জানিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলে যোগ দিয়ে সায়নী জানিয়েছেন, “যারা এখানে আছি তাঁরা কথা দিচ্ছি বাংলার মা বোনেদের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা, সুরক্ষার কথা আমরা দেখে রাখব।
‘তোমার পরে ঠেকাই মাথা’, বাংলার সার্বিক উন্নয়নেক কথা মাথায় রেখে আমরা এগিয়ে যাব। বাংলার শান্তি সম্প্রীতির বজায় রাখব। আমাদের বাংলার মাটি ১০ কোটি বঙ্গবাসীর হৃদয়ের স্পন্দন। শুধু ভোটের আগে সেটা কারও পাখির চোখ হয়ে উঠতে পারে না।” নিজেদের উপর এবং মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের উপর বিশ্বাস রাখার আহ্বানও জানান তিনি।



