নজরবন্দি ব্যুরোঃ কলকাতায় মার্চে একবারও দেখা নেই বৃষ্টির। এপ্রিল মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বদলায়নি পরিস্থিতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৬ সালের পর এমন ঘটনার সাক্ষী থাকেনি কলকাতা। তবে একই সঙ্গে আশার কথা শুনিয়েছেন আলিপুর আবহাওয়া দফতর, সম্ভবত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে কলকাতায় বৃষ্টি হতে পারে, দেখা মিলতে পারে কালবৈশাখীরও।
আরও পড়ুনঃ চাই সরকারি চাকরি, তাই জঙ্গলমহলে বাড়ছে ভুয়ো মাওবাদী, চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে


আজ মঙ্গলবার, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সপ্তাহে কলকাতাতে হতে পারে কালবৈশাখী। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রার পারদ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে গেছে। এখনও অবধি সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে৷ মুম্বই তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি। চেন্নাইতেও ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন হালকা এবং মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা ঝড়ো হাওয়া বইবে উত্তরবঙ্গে। ৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ঝড় বইতে পারে ৷ সঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। দক্ষিণবঙ্গের জন্যও আশার বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণের পাঁচ জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা।

গরমে পুড়ছে দক্ষিণবঙ্গ। বৈশাখের শুরুতেই বাতাসে আগুনের হলকা। তারসঙ্গে আর্দ্রতা জনিত অস্বস্তি। এখনও কালবৈশাখীর মুখ দেখেনি বৈশাখের দক্ষিণবঙ্গ। তবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। চলতি সপ্তাহেই কলকাতাতেও কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে।


শুধু কলকাতা নয়, আগামিকাল থেকে গোটা দক্ষিণবঙ্গেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আজই দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামিকাল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি চলবে।
দুই বঙ্গের দুই ছবি। দক্ষিণে যখন আগুনের হলকা, উত্তরে তখন বারবার শিলাবৃষ্টি, ঝড়ের তাণ্ডব। এক বঙ্গে প্রকৃতির দুই রূপের কারন কী? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? উত্তরে ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে। সিকিম থেকে অক্ষরেখা ঝাড়খন্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর টানেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমানে জলীয় বাস্প ঢুকেছে উত্তরে।তাই বৈখাখের শুরুতেই বৃষ্টিতে ভিজেছে উত্তর।
মার্চ থেকে বৃষ্টি শূন্য কলকাতার স্বস্তি, ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি গতিবেগে ঝড়-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়াবিদরা বলছেন বিশ্বজুড়েই রূপ বদলাচ্ছে প্রকৃতির। বিশ্ব উষ্ণায়নের আঁচে সবই ওলোটপালট। এ বঙ্গেও খামখেয়ালি আবহাওয়া। এখনও কালবৈশাখীর মুখ দেখেনি কলকাতা। দীর্ঘ ষোলো বছর পর কালবৈশাখীর এই দীর্ঘ বিরতি।







