এই মরসুমে জাঁকিয়ে শীত উপভোগ করেছে গোটা বাংলা। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের সর্বত্রই প্রায় একই ছবি। ভোরের হিমেল হাওয়া, কুয়াশার চাদর আর রাতের তীক্ষ্ণ ঠান্ডা যেন শীতপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি এসে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই ঠান্ডা আর কতদিন? কবে থেকে বাড়বে তাপমাত্রা? ঠিক কবে বিদায় নেবে শীত?
মৌসম ভবনের সাম্প্রতিক আপডেট বলছে, আপাতত স্বস্তির খবরই রয়েছে। শুক্রবারও রাজ্যজুড়ে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক। এর জেরেই উত্তুরে হাওয়ার দাপট বজায় রয়েছে এবং কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, এই পরিস্থিতি মোটের উপর রবিবার পর্যন্ত বজায় থাকবে। অর্থাৎ চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত শীত নিয়ে এখনই মন খারাপ করার কোনও কারণ নেই।


তবে বদল আসবে ধীরে ধীরে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারি, সোমবার থেকে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে শুরু করবে। যদিও তার মানে এই নয় যে শীত একেবারে উধাও হয়ে যাবে। বরং ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোটামুটি ঠান্ডা অনুভূতি বজায় থাকবে। কিন্তু ২৪ জানুয়ারি, শনিবার থেকে ধীরে ধীরে শীতের জাঁকুনি কিছুটা হালকা হতে পারে।
কবে পুরোপুরি বিদায় নেবে শীত?
হাওয়া অফিসের সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই শীতের বিদায়পর্ব শুরু হবে। তখন এক ধাক্কায় রাতের ঠান্ডা অনেকটাই কমে যাবে এবং দিনের বেলায় বসন্তের ছোঁয়া স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি
দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতা সহ আশপাশের জেলাগুলিতে আবহাওয়া এখনও শুষ্ক। এর ফলে উত্তুরে হাওয়া নির্বিঘ্নে বয়ে চলেছে। জেলাগুলিতে শীতের কামড় তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও কলকাতা, সল্টলেক ও দমদমে শহুরে প্রভাবের কারণে ঠান্ডা কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।


উত্তরবঙ্গের চিত্রও প্রায় একই। দার্জিলিং ও পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে হাড়কাঁপানো শীত একেবারে কমেনি। পাহাড়ে এখনও যবুথবু ঠান্ডা রয়েছে। পাশাপাশি ডুয়ার্স, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও মালদাতেও ভালই শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে।
কুয়াশার সতর্কতা জারি
শীত পুরোপুরি বিদায় না নেওয়ায় আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কুয়াশার দাপট বজায় থাকবে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারেরও নীচে নামতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই সকালের দিকে যাঁরা রাস্তায় বেরোবেন, তাঁদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








