২১ জুলাই রাজনৈতিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আবহাওয়ার দিক থেকেও দিনটি নজরে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department) জানিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে শহরের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি আবহাওয়াও বড় প্রভাব ফেলতে পারে দিনের গতিপ্রকৃতিতে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। দিনের বিভিন্ন সময়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদিনই মেঘলা আকাশ থাকবে এবং দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।
সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বৃষ্টির জেরে গরমের অস্বস্তি কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকবে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা রাঁচি (Ranchi) হয়ে দিঘা (Digha) পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এই দুই আবহাওয়াগত অবস্থানের প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) এবং নদিয়া (Nadia) জেলায় কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি জেলাগুলিতেও বৃষ্টির প্রভাব অব্যাহত থাকবে।
টানা বর্ষণের কারণে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। নিচু এলাকায় জল জমা বা প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। দার্জিলিং (Darjeeling) ও কালিম্পং (Kalimpong)-এর পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অতিবৃষ্টির কারণে কৃষিজমির ফসলেরও ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণ ও উত্তর—দুই বঙ্গেই বর্ষার প্রভাব জারি থাকবে। বিশেষ করে যাঁদের বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আবহাওয়ার আপডেট দেখে সতর্কতার সঙ্গে যাতায়াত করার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।



