নজরবন্দি ব্যুরো: মিলাদ-উন-নবী (Milad-un-Nabi) উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার বজায় রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে বিদেশি পতাকা বা রাজনৈতিক প্রচার বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। এক্স (X)-এ দেওয়া পোস্টে ইসলামপুর জেলা পুলিশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, মিলাদ-উন-নবী উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় পতাকার পাশাপাশি ভারতের জাতীয় পতাকাও স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে বহন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, মতপ্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক আচার পালনের অধিকার প্রত্যেক সম্প্রদায়ের রয়েছে এবং প্রশাসন তা সুরক্ষিত রাখবে।
তবে সেই সঙ্গে তাঁর কড়া বার্তা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সুযোগ নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা বা কোনও ধরনের ‘বিদেশি রাজনৈতিক প্রচার’ বরদাস্ত করা হবে না। ইসলামপুর জেলা পুলিশের তরফে অনুমোদনহীন বিদেশি পতাকা বাজেয়াপ্ত, FIR দায়ের এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।
পোস্টে শুভেন্দু দাবি করেছেন, গোটা রাজ্যে মাত্র দু’টি বিদেশি পতাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি তাঁর পোস্টে করা দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে; স্বাধীনভাবে যাচাই করা সরকারি পরিসংখ্যান এই মুহূর্তে সামনে পাওয়া যায়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে না মেশানোর প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান মূলত বিশ্বাস, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের জায়গা; সেখানে বিদেশি রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার সামাজিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে।
একইসঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও শোনা গিয়েছে তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দুর অভিযোগ, অতীতে ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র কারণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আইন ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে আপস করা হত। তাঁর দাবি, সেই পরিস্থিতি আর চলবে না এবং প্রশাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর থাকবে।
শুভেন্দু তাঁর পোস্টে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ (West Bengal Police), কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police), জেলা প্রশাসন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও প্রশংসা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যজুড়ে মিলাদ-উন-নবীর শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রসঙ্গত, মিলাদ-উন-নবীকে ঘিরে ধর্মীয় পতাকা ও শোভাযাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গে নতুন নয়। ২০২২ সালে কলকাতার মোমিনপুরে মিলাদ-উন-নবীর পতাকা ঘিরে উত্তেজনা ও পরবর্তী সংঘর্ষের ঘটনায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।
এবারও তাঁর বার্তার মূল সুর—ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে আইনভঙ্গ বা বিদেশি রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহার হলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ করবে। ফলে মিলাদ-উন-নবী ঘিরে শুভেন্দুর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



