নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আচমকা অপসারণ, আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দায়িত্ব—রাজ্যের ১৯ জন আইপিএস আধিকারিককে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করল নবান্ন। বুধবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ পদেই তাঁদের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিশ থেকে সরানো ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপার।
কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের সিআইডিতে স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবে। একইভাবে, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদ থেকে অপসারিত রাজীব মিশ্র এখন এডিজি (সংস্কার ও সমন্বয়) পদে দায়িত্ব সামলাবেন।
ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী এবং আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধরিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এ আইজি পদে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আইজি পদ থেকে সরানো সুকেশকুমার জৈনকে পাঠানো হয়েছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর আইজি হিসেবে।
গোয়েন্দা শাখাতেও বড় রদবদল হয়েছে। হাওড়া ও চন্দননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার—আকাশ মাঘারিয়া এবং কোটেশ্বর রাও—এখন আইবির ডিআইজি পদে। এছাড়া, আইবির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে একসঙ্গে ছ’জন অপসারিত পুলিশ সুপারকে বসানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন জোবি থমাস, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমনদীপ, কামনাশিস সেন, ধৃতিমান সরকার এবং হোসেন মেহেদি রহমান।
এসটিএফ-এও একাধিক নিয়োগ হয়েছে। পারিজাত বিশ্বাস, বিশপ সরকার, সন্দীপ কাররা, আরিশ বিলাল এবং পলাশচন্দ্র ঢালি—এই পাঁচ পুলিশ সুপারকে এসটিএফ-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বারাসতের প্রাক্তন পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডিসি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীনারায়ণ মীনা নিজের এডিজি (কারা) পদে বহাল থাকলেও অতিরিক্তভাবে রেকর্ড ব্যুরোর দায়িত্বও পেয়েছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের শর্ত মেনেই প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত এই রদবদল করেছে রাজ্য সরকার।



